বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে ও আশপাশের সংরক্ষিত এলাকায় ঘাস কাটার অনুমতি দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বহিরাগতদের বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত (কেপিআই) স্থাপনার ভিতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের সীমানাপ্রাচীরবেষ্টিত এলাকার আশপাশের কৃষকদের ঘাস কাটার সুযোগ মাথাপিছু ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। সকাল ও বিকালে পালাক্রমে এসব ব্যক্তি বিমানবন্দরের ভিতরে প্রবেশ করে ঘাস কেটে নিয়ে যান। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল বিমানবন্দরে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনায়ও পরিবর্তন এসেছে। নিয়মিত ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বিমানবন্দরের ভিতরে মানুষের চলাচলও আগের তুলনায় কমেছে। এরই মধ্যে রানওয়ের আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ঘাস জন্মেছে। বর্তমানে প্রায় ৩০-৪০ জন কৃষক বিভিন্ন সময়ে বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকে ঘাস কেটে নিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবন্দরের এক কর্মচারী বলেন, সীমানাপ্রাচীরের নিচ দিয়ে লোকজন ভিতরে প্রবেশ করে ঘাস কাটছে। এর বিনিময়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তারা শুনেছেন।
এদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অধীক্ষক মনমথ সরকার বলেন, বিমানবন্দরের ভিতর থেকে ঘাস কাটা হলে এর বিপরীতে কোনো অর্থ পাওয়া গেলে তা সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হওয়ার কথা। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীরের নিরাপত্তা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার রায় বলেন, আশপাশের কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে ঘাস কাটার জন্য বিমানবন্দরের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে আসছিলেন। তাদের অনুরোধ বিবেচনা করে ফ্লাইট না থাকার সময় কিছু মানুষকে ঘাস কাটার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এভাবে বহিরাগতদের বিমানবন্দরে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হবে। সীমানাপ্রাচীর দিয়ে অবাধে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ও এ-সংক্রান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত স্থাপনায় অনুমোদন ছাড়া বহিরাগতদের প্রবেশের সুযোগ থাকলে তা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ঘাস কাটার নামে অর্থ আদায় হয়ে থাকলে তা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, এর কোনো অনুমোদন ও হিসাব রয়েছে কি না, এসব বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন