সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বসবাসরত রোহিঙ্গা ও স্থানীয় হোস্ট কমিউনিটির খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্য বৈচিত্র্য এবং পুষ্টি ফলাফলের ওপর বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের (হোমস্টেড গার্ডেনিং) প্রভাব নিয়ে পরিচালিত সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন ও যাচাই করা হয়েছে।
গতকাল কক্সবাজারের হোটেল বিচ ওয়েতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মুক্তি কক্সবাজার আয়োজিত এক ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপে সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। ‘হার্ভেস্টিং হোপ’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এ সমীক্ষায় কারিগরি সহায়তা দিয়েছে অক্সফাম ইন বাংলাদেশ এবং আর্থিক সহায়তা করেছে ক্যান্টন জেনেভা।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন মুক্তি কক্সবাজারের উপ-প্রধান নির্বাহী সৈয়দ লুৎফুল কবির চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যে তিনি প্রমাণভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অঙ্গীকার তুলে ধরেন।
অক্সফাম ইন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শরিফুল ইসলাম জলবায়ু-সহনশীল ও প্রমাণভিত্তিক বাড়ির আঙ্গিনায় সবজি চাষের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মুক্তি কক্সবাজারের সেফগার্ডিং ফোকাল খালেদা নাসরিন বলেন, জীবিকায়ন কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ শুধু পারিবারিক আয় বৃদ্ধিতেই ভূমিকা রাখছে না, বরং পরিবারে তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও শক্তিশালী করছে।
সমীক্ষা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থিংক থ্রু কনসালটেন্সি (টিটিসি)-এর মাধব সি. দাস ও হুমায়ুন কবির সমীক্ষার পদ্ধতি ও প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন। পরে মুক্তি কক্সবাজারের মনিটরিং ও ইভালুয়েশন পরিচালক খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় ফুড সিকিউরিটি সেক্টর সাপোর্টের প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট বিজয় কুমার বড়ুয়া সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে মতামত দেন। তিনি সমীক্ষাটিকে সেক্টরের সামগ্রিক মূল্যায়নের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি সুপারিশগুলো আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেন।
তিনি সমীক্ষার টার্মস অব রেফারেন্স প্রণয়ন, প্রস্তুতি, প্রশ্নপত্র ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ—প্রতিটি পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সেক্টরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার জন্য মুক্তি কক্সবাজার ও অক্সফাম ইন বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
কর্মশালায় অংশ নেওয়া উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা সমীক্ষার ফলাফল আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জলবায়ু-সহনশীল ও পুষ্টি-সংবেদনশীল সবজি বাগান কার্যক্রম বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তাঁরা।
কর্মশালায় কেয়ার বাংলাদেশ, কর্ডএইড, হেলভেটাস, আইআরসি, মালটেজার ইন্টারন্যাশনাল ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং মুক্তি কক্সবাজারের প্রকল্প দলের সদস্যরা অংশ নেন।
মুক্তি কক্সবাজারের ম্যানেজার-প্রশিক্ষণ আন্জুমান হোসেনের সঞ্চালনায় কর্মশালাটি শেষ হয় অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এ সময় চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এসব মতামত বিবেচনায় নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।