শিরোনাম
◈ নবম পে-স্কেলের বেতন কাঠামো প্রকাশ ◈ লর্ডসে পাকিস্তানের ভরাডুবি, সি‌রিজ জিত‌লো ইংল‌্যান্ড ◈ মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন, জানুন প্রজ্ঞাপন ও বেতন কার্যকরের তারিখ ◈ আসিম মুনিরের অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন : পূজার আগে পাকিস্তানের হামলার শঙ্কা, নজরদারি বাড়িয়েছে ভারত ◈ ‘পরীক্ষিত’ সিল ছাড়া মাংস বিক্রি করলে দোকান বন্ধ: ডিএসসিসি প্রশাসক ◈ সেপ্টেম্বরেও অপরিবর্তিত জ্বালানি তেলের দাম ◈ যুব এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে রাতে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তান ◈ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সুখবর, ৭ সেপ্টেম্বর থেকে মূল টাকা তুলতে পারবেন গ্রাহকেরা ◈ রা‌তে নারী এশিয়া কা‌পে ইন্দোনেশিয়ার বিরু‌দ্ধে ম্যাচ দিয়ে লড়াই শুরু বাংলা‌দে‌শের ◈ পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে বাস উল্টে আহত ৮

প্রকাশিত : ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৫০ বিকাল
আপডেট : ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মধুমতি নদীর পেটে ভিটামাটি, ‘আর কতবার ঘর ভেঙে সরাবো’

হারুন-অর-রশীদ, ​ফরিদপুর প্রতিনিধি: ​“আর কতবার ঘর ভেঙে সরাবো? নদীর থাবায় সব শেষ। জমিজমা হারিয়ে আজ আমরা নিঃস্ব,” কথাগুলো বলতে বলতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার লংকারচর নীচুপাড়া এলাকার বাসিন্দা আরতী গোয়ালী। মধুমতি নদীর আগ্রাসী ভাঙনে বছরের পর বছর বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে দিশেহারা এই অঞ্চলের নদীপাড়ের শত শত মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বোয়ালমারীর ঘোষপুর ইউনিয়নের লংকারচর নীচুপাড়া এলাকায় মধুমতির কুপোকাতে ইতোমধ্যে প্রায় দুই একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে আরও প্রায় এক একর জমি। যেকোনো মুহূর্তে অবশিষ্ট ভিটামাটি ও ফসলি জমি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের রাত-দিন।

​ভিটামাটি হারানোর নির্মম অভিজ্ঞতা জানিয়ে আরতী গোয়ালী বলেন, “৩০ বছর আগে এই এলাকায় বউ হয়ে এসেছি। তারপর থেকেই দেখছি মধুমতির এই তাণ্ডব। একসময় স্বাবলম্বী থাকলেও একরের পর একর জমি হারিয়ে আজ আমরা বলতে গেলে ভূমিহীন। রাস্তার পাশে সামান্য একটু জায়গা কিনে ঘর তুলেছি, নদীপাড়ের পুরোনো বসতঘরটাও ভাঙনের ভয়ে ছেড়ে দিতে হয়েছে।”

​অভিযোগ রয়েছে, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণেই বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়। নদীপাড়ের আরেক ভুক্তভোগী আনিতা মন্ডল জানান, জীবনসংগ্রামের নানা প্রতিকূলতার মাঝে নদীভাঙন তাদের অস্তিত্বকে আরও সংকটে ফেলে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কৃষিকাজ থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিশ্রম আমরা পুরুষদের পাশাপাশি করি। জমিজমা নদী গিলে খেয়েছে। সরকার থেকে কয়েকটি ভেড়া পেয়েছিলাম, নৌকায় করে নদীতে পার করে সেগুলোকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যাই। আগে যেখানে ধান-পাট ফলাতাম, সেখানে এখন কেবলই পানি। এখন যদি বাঁধ না দেওয়া হয়, আমাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা থাকবে না।”

​স্থানীয় রঘুনাথ মন্ডল জানান, নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতি বছরই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “ঘর সরাতে সরাতে আমরা আজ ভিটাছাড়া। আতঙ্কে চোখ বুজতে পারি না—কখন অবশিষ্ট জমিটুকুও নদী কেড়ে নেয়!”

​এলাকাবাসীর তথ্যমতে, কেবল আরতী গোয়ালী বা আনিতা মন্ডলই নন; নদীগর্ভে সহায়-সম্পদ হারিয়েছেন বিধান বদ্দী, হরশিত, ননী, অচিন্ত গোয়ালী, জীবানন গোয়ালী ও রঘুনাথ মন্ডলসহ অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি পরিবার। শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে তারা অবিলম্বে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

​অবৈধ বালু উত্তোলনকে দায়ী করে ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন নবাব বলেন, “আমার ইউনিয়নের কিছু অংশ জুড়েই এই নদীভাঙন। নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করা হলে বাসিন্দাদের এই ভোগান্তিতে পড়তে হতো না।”

​সার্বিক বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা অংশ ব্লক ফেলে নদীশাসনের কাজ শেষ করেছে। বোয়ালমারী অংশের ভাঙন কবলিত এলাকায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দ্রুতই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ