নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণে এক স্কুলশিক্ষার্থী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পর মো. আবু মিয়া (৩৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল (৫৫) পলাতক।
পুলিশ জানায়, মেয়েটির বাবা আজ সকালে কেন্দুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এজাহারে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীকে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাদের আত্মীয় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখা হয়। মেয়েটি তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরিবারের কাছে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলের সহযোগী এক নারী ওই শিক্ষার্থীকে একটি বাসায় নিয়ে যান এবং সেখানে আরও কয়েকজন তাকে ধর্ষণ করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়।
পরিবারের ভাষ্য, গত ১ আগস্ট মেয়েটি চট্টগ্রামে বড় ভাইয়ের বাসায় গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি পুরো বিষয়টি জানায়।
গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরীক্ষায় মেয়েটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট বাড়িতে ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা ঘটনার বিস্তারিত জেনে মামলা করে।
এদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোয়াজ্জেম হোসেন খান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, যার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তাকে দলে রাখার সুযোগ নেই। কোনো ব্যক্তির দায়ভার দল নেবে না।’
ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, 'মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত আসামি মো. আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।' উৎস: ডেইলি স্টার।