শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর কাজে সন্তুষ্ট ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ: ডপলার রিসার্চের জরিপ ◈ ৪ দিন খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভাসছিলেন ৩০০ মার্কিন সেনা, অতঃপর... ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এমপিদের ভোটদান নিয়ে ইসির ৯ নির্দেশনা ◈ ১৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন ◈ মিয়ানমারের বিবৃতি কি রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল করে তুলল? ◈ সাশ্রয়ী দামে স্মার্টফোন দিতে সরকারের নতুন পরিকল্পনা ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক ◈ নবম পে স্কেলের গেজেট কবে, যা জানা গেল ◈ ভারত স্বার্থ-শর্ত ছাড়া আমন্ত্রণ জানালে স্বাগত জানাবে বাংলাদেশ: রিজভী ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অভ্যস্ত নয় ইসি, তবে প্রক্রিয়ায় কোনো গ্যাপ থাকবে না: সিইসি

প্রকাশিত : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:৪৮ বিকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতার অস্ত্র হাতে মহড়া, গ্রেপ্তারের পর মুক্তি—কার ইশারায়?

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে মাথা ও শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে এবং লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়া সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে
(৩৫) আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তাঁর ব্যবহৃত লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়ার প্রতিবাদে থানার সামনে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত নেতা মেহেদী হাসান গ্রুপের অনুসারীরা। সন্ধ্যায় থানার সামনে বক্তব্য দেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব মেহেদী হাসান।

এর আগে সোমবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর শহরের প্রধান সড়কে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে
অস্ত্র হাতে মহড়া দেন বাপ্পী। তিনি ছাত্রদলের সাবেক নেতা, ঈশ্বরদী পৌরসভার বকুলের মোড়
এলাকার বাসিন্দা এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থক। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মাথা ও শরীরে সাদা কাফনের কাপড় জড়িয়ে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বের হন বাপ্পী। পরে তিনি শহরের বিভিন্ন সড়কে অস্ত্র হাতে ঘোরেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন অনুসারী ছিলেন। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বাপ্পী ঈশ্বরদী থানায় গিয়ে অস্ত্রটি জমা দেন বলে দাবি করে পুলিশ। এ সময় তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পাবনা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাপ্পীকে আটকের পর সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবি হেফাজতে দেয় ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। দুই ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত ৪টার দিকে তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় ডিবি পুলিশ।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে তাঁকে আটকের তথ্য জানান ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার। তখন তিনি ছেড়ে দেওয়ার তথ্য জানাননি। শুধু বলেছেন, ‘তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাবনা জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

বিকেলে বাপ্পীর বিষয়ে জানতে চাইলে প্রণব বলেন, ‘মুচলেকা নিয়ে বাপ্পীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অস্ত্রটি জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাপ্পী কেন প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন, তাঁর অস্ত্রের লাইসেন্সের কোনো শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে কি না, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তবে বাপ্পীর দাবি, তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে হুমকিদাতাদের পাশাপাশি মাদক ও সুদের কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তাঁদের ওপেন চ্যালেঞ্জ অস্ত্র হাতে রাস্তায় নেমেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে বাপ্পী নিজ বাড়ি থেকে শরীরে কাফনের কাপড় জড়িয়ে ও হাতে লাইসেন্স করা অস্ত্র নিয়ে মহড়া শুরু করেন। ঈশ্বরদী থানার কাছাকাছি পৌঁছালে অপর একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রাতে থানায় গিয়ে বাপ্পী তাঁর লাইসেন্স করা অস্ত্রটি জমা দেন। পরে প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতার তদবিরে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। কারণ ওই নেতাই তাঁকে শেল্টার দিচ্ছেন বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

এদিকে বাপ্পীর অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদে বিএনপির অপর পক্ষের নেতাকর্মীরা সোমবার রাতে ঈশ্বরদী থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এই পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। অন্যদিকে হাবিবুর রহমান ফেসবুক লাইভে এসে বাপ্পীর পক্ষে বক্তব্য দেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জাকারিয়া পিন্টুর সমর্থকেরা থানার ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে অস্ত্র হাতে মহড়ার প্রতিবাদ জানান। রাত পৌনে ৮টার দিকে থানার সামনে বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান।

বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন বাপ্পী। প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে তিনি পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। প্রতিপক্ষকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যেই তিনি অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন।

বাপ্পীর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে বলেন, ‘বাপ্পী মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে থানায় অস্ত্র জমা দিতে গিয়েছিল। কিন্তু বিষয়টিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’

তবে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মাসুদ খন্দকার বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের দলের হলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাপ্পী প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে নিয়ে আমাকে হত্যার জন্য বকুলের মোড় থেকে রেলগেটে এসে আমাকে গালাগালি ও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তাকে গ্রেপ্তার করে তার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে।’

বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জামায়াতের

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবু তালেব মন্ডল ও পাবনা জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য গোলাম রাব্বানী খান জুবায়েরকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য প্রদান এবং ঈশ্বরদী শহরে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা জুবায়ের হোসেন বাপ্পীকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঈশ্বরদী উপজেলা শাখা। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের আলহাজ মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়