শিরোনাম
◈ চুক্তি সই : ৬১৯ কোটি টাকায় পুনরায় চালু হচ্ছে ৩ বন্ধ পাটকল ◈ সারাদেশে লোডশেডিং, নেপথ্যে অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জিং! ◈ চোরাচালান থেকে অপরাধী শনাক্ত, শাহজালাল বিমানবন্দরে বাড়ছে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আমন্ত্রণ জানিয়েছি: রণধীর জয়সোয়াল ◈ দেশে হামের উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, মোট ৮৮০ ◈ আখেরি চাহার সোম্বা বুধবার, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ◈ প্রবাসীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, না দেওয়ায় ভবনের ফটকে গুলি ছুড়ে পালাল দুর্বৃত্তরা ◈ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ সরাসরি সম্প্রচার হবে: ইসি সচিব ◈ ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ হবে যেভাবে

প্রকাশিত : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:৫৯ রাত
আপডেট : ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটে হাসপাতালের গেটে অ্যাম্বুলেন্সে ভয়াবহ আগুন

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট : বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের পুরাতন ভবনের গেটের সামনে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা। রোগী নিতে এসে দাঁড়ানো একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বিকট শব্দে আগুন ধরে মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে অ্যাম্বুলেন্স; আগুনের তাপে পুড়ে যায় পাশে থাকা অন্তত আটটি মোটরসাইকেল। গুরুতর দগ্ধ হন অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেন। তবে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়ায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায় হাসপাতাল ভবন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে এক শিশু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। রোগী গাড়িতে ওঠার আগেই অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালের পুরাতন ভবনের গেটের সামনে পার্ক করা হয়। এ সময় চালকের সহকারী গাড়ির পেছনের ঢালা খুলছিলেন। চালক ফরিদ হোসেন তখন গাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিকট শব্দ হয়। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় গাড়িতে।

চোখের পলকে আগুনের ভয়াবহতা বাড়তে থাকলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতালজুড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে পাশের মোটরসাইকেলগুলোতে। একে একে আগুনে পুড়ে যায় অন্তত আটটি মোটরসাইকেল। এ সময় হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। প্রায় ২৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সাইদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও পাশে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। হাসপাতালের দুইতলা ভবনের সামনে হওয়ায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে অ্যাম্বুলেন্সচালক ফরিদ হোসেন দগ্ধ হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন আ স মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, মাসিক সভা চলাকালে হাসপাতালে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স সম্পূর্ণ পুড়ে যেতে এবং পাশে থাকা সাত থেকে আটটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখা যায়। আগুনের পরপরই হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে মূল হাসপাতাল ভবন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুরোনো ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ব্যবহৃত গ্যাস ও অক্সিজেন সিলিন্ডারের মেয়াদ, ফিটনেস এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। ত্রুটিপূর্ণ বা মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, অ্যাম্বুলেন্সে আগুন লাগার ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে হাসপাতাল রক্ষা পেয়েছে। আহত চালককে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স রাখার স্থান ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করা হবে।

নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর ও জনবহুল স্থানে গ্যাস সিলিন্ডারযুক্ত অ্যাম্বুলেন্সের নিরাপত্তা পরীক্ষা কতটা কার্যকরভাবে হচ্ছে—এ ঘটনায় সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের সিলিন্ডার, ফিটনেস ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়মিত পরীক্ষা করা না হলে যেকোনো সময় আরও ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।"

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়