ফয়সাল চৌধুরী, জেলা প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোররাত ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম চত্বরে অবস্থিত ৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুকে) একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই ভিডিওতে একজনকে (পুরুষ) বলতে শোনা যায়, ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে- বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই, জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু। হানিফ সাহেবের ভয় নাই, কামরুল ভাইয়ের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই। ষড়যন্ত্র করে জঙ্গিবাদীরা আমার নেত্রীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছে, বাংলাদেশ থেকে যেতে বাধ্য করেছে। আমরা এই জুলাই মানি না, কখনও মানব না। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, আমরা শেখ হাসিনাকে ডিসেম্বরে ইনশাল্লাহ ওয়েলকাম করে নিয়ে আসব’।
এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা এনসিপির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনের পরে জুলাই স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়ার এনসিপির নেতৃবৃন্দ ও জুলাই যোদ্ধারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, এখানে নিয়মিত পুলিশ দায়িত্বে থাকে, ঘটনা সময়ও পুলিশ ডিউটিতে ছিল। তাহলে পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল।
এনসিপি কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনি জানিয়েছেন, শহীদ জুলাই ৩৬ স্মৃতিস্তম্ভে আগুনের ঘটনা স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। এ ঘটনা জুলাই শহীদদের চেতনার উপর চরম আঘাত। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি করছি।
কুষ্টিয়ার জুলাই যোদ্ধা ও জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা জানান, ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পতিত সরকারের বেশ কিছু বিপথগামী ছাত্রনেতারা এই কাজ করেছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোষীদের দ্রুত আটক ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে শীঘ্রই কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আলমাস হোসেন বলেন, এটি পরিকল্পিত ঘটনা। এমন ঘটনা যে ঘটবে তা আগেই তারা জানতে পেরেছিলেন। বিয়টি তারা পুলিশকে আগেই জানিয়েছিলেন।
এদিকে আগুন দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় তারা জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন জানান, কুষ্টিয়া শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ঘটনস্থল পর্যবেক্ষণ করেছে। আমরা এই ঘটনা তদন্তপূর্বক দোষীদের চিহ্নিত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।