হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর শহরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ফের অভিযান চালিয়েছে ফরিদপুর পৌরসভা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান, স্থাপনা ও অন্যান্য অবৈধ দখল উচ্ছেদের মধ্য দিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৩টা থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর আগে রোববারও (৯ আগস্ট) শহরের কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের অভিযান চালায় পৌর কর্তৃপক্ষ।
সোমবারের অভিযানে শহরের জনতা ব্যাংকের মোড়, নিউমার্কেটের সামনে, চকবাজার, থানা রোড, মহাকালী পাঠশালার মোড়, বলাকা সুপার মার্কেটের সামনে, ময়রা পট্টিসহ আশপাশের এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জাকিরের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ সময় কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসানো বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দখলদারদের ভবিষ্যতে ফুটপাত বা সড়কের জায়গা দখল করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
পৌরসভা সূত্র জানায়, শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল এবং অস্থায়ী স্থাপনার দখলে থাকায় পথচারীদের ভোগান্তি বাড়ছিল। অনেক ক্ষেত্রে ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে পথচারীদের মূল সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
অভিযানের ফলে কয়েকটি এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের জায়গা দৃশ্যমানভাবে উন্মুক্ত হয়েছে। এতে পথচারীদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
ফরিদপুর পৌরসভা জানিয়েছে, শহরকে পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত ও পথচারীবান্ধব রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্তকরণ অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। উচ্ছেদের পর পুনরায় যাতে কেউ ফুটপাত বা সড়ক দখল করতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি জোরদার করা হবে।
এদিকে পৌরসভার এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শহরের সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, শুধু অভিযান চালিয়ে স্থাপনা উচ্ছেদ করলেই হবে না; উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দীর্ঘমেয়াদে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।