মিজান লিটন : চাঁদপুর নদী বন্দরের প্রবেশমুখে মেঘনা নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের কবলে পড়ে ৪৪০ বস্তা শাহ সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে গেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বড়স্টেশন মোলহেডসংলগ্ন তিন নদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটিতে থাকা চারজনকে স্থানীয় নৌকা ও ট্রলারের মাঝিরা দ্রুত উদ্ধার করায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। তবে ট্রলার ও সিমেন্টসহ প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন মালিক।
ডুবে যাওয়া ট্রলারটির নাম ‘এইচ এম পরিবহন’। এর মালিক হানিফ বেপারি। ট্রলারের সুকানি ছিলেন আইয়ুব আলী।
ট্রলার মালিক হানিফ বেপারি জানান, আজ সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ৪৪০ বস্তা শাহ সিমেন্ট নিয়ে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় ‘এইচ এম পরিবহন’। দুপুর ১২টার দিকে চাঁদপুর নদী বন্দরে প্রবেশের সময় শহরতলীর বাঘরা বাজার ঘাটে পৌঁছানোর আগেই বড় স্টেশন মোলহেডসংলগ্ন মেঘনা নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের মুখে পড়ে ট্রলারটি। স্রোতের টানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ট্রলারটি ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রলারে থাকা চারজনের মধ্যে ছিলেন সুকানি আইয়ুব আলীসহ অন্যরা। ট্রলারটি ডুবে যেতে দেখে আশপাশের নৌকা ও ট্রলারের মাঝিরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাদের সাহসিকতায় চার আরোহীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রাণহানি না ঘটলেও দুর্ঘটনায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ট্রলার মালিক হানিফ বেপারি। তিনি বলেন, আমার একমাত্র সম্বল ছিল ট্রলারটি। সেটিও নদীতে তলিয়ে গেছে। সিমেন্টসহ সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে চাঁদপুর নৌ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
চাঁদপুর জেলা সিমেন্টবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড মালিক সমিতির সভাপতি আকবর হোসেন মাতব্বর ও সাধারণ সম্পাদক মাজারুল ইসলাম দাদন বলেন, কোম্পানির সিমেন্টের ক্ষতি হয়েছে, কিন্তু ট্রলার মালিকের কী হবে? তাঁর একমাত্র সম্বল ট্রলারটি মেঘনায় তলিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে নৌ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ট্রলারটিতে ৪৪০ বস্তা সিমেন্ট ছিল। সিমেন্টসহ ট্রলারটি নদীতে তলিয়ে গেছে। ট্রলারে থাকা চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা বিকেল পর্যন্ত চাঁদপুরে অবস্থান করেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।