প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত সফরে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ি ঘুরে গেছেন। আজ রোববার সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারে করে মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে হেলিপ্যাডে অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহাফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফর সঙ্গী হয়ে এ সময় হেলিকপ্টার থেকে নামেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে মাতারবাড়ি পৌঁছার পর তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান। সেখানে সকাল ১১ টা থেকে দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় মাতারবাড়ি ১,২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান উৎপাদন পরিস্থিতি, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্ট পরিচালনার দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা ১৫ মিনিটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলে।
এ সময় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে জেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্তোষ প্রকাশ করে তাঁদের দক্ষতার প্রশংসা করেন।
বৈঠক শেষে বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে তিনি নিম গাছ রোপণ করেন। পরে বেলা সাড়ে ১২ টায় মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) এর প্রস্তাবিত প্রকল্প সরেজমিনে দেখতে বের হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প, নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থান, এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো, কয়লা জেটি, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর-সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং প্রস্তাবিত ৩ ও ৪ নম্বর কোল পাওয়ার প্ল্যান্টের স্থান, প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি ঘুরে দেখেন।
প্রধানমন্ত্রীর মহেশখালী আগমনে জনসাধারণের সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা না থাকলেও ভোর থেকে দলের কর্মী সমর্থক এবং উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ মাতারবাড়ি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল ফটকে (সেলফি গেট) এসে ভিড় জমান। এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।
মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল জ্বালানি ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্দেশনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনা, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
পরে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হেলিকপ্টারে করে মহেশখালী ত্যাগ করে বাঁশখালীর উদ্দেশে রওনা হন।