শিরোনাম
◈ বাংলাদেশিদের জন্য ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণে ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা বহাল রাখার আশ্বাস ◈ রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনায় ৬ কমিটি গঠন ◈ ২ ঘন্টার সংক্ষিপ্ত সফরে মাতারবাড়িতে প্রধানমন্ত্রী ◈ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অসন্তোষ, কমলাপুর স্টে‌ডিয়া‌মের প্রশাসক বরখাস্ত ◈ বিটিভির ডিজি নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে ভুল, আসছে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন ◈ খে‌লোয়াড়‌দের ১৪ মাস ধরে বেতন দেয় না বসুন্ধরা কিংস ◈ হেফাজত আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ◈ রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়ন চূড়ান্ত, ঘোষণা বুধবার ◈ যান্ত্রিক ত্রুটিতে রোমে ৪০ ঘণ্টা আটকা, ঢাকায় ফিরে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে যা বললেন বিমানের যাত্রীরা ◈ ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৬৭২

প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:২৮ বিকাল
আপডেট : ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

রুকুনুজ্জামান,পার্বতীপুর প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষা নিতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয় চন্দ্র সরকার (২৩)-এর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার পরিবার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তবে ভারতীয় পক্ষ থেকে পরিবারকে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে জানানো হয়েছে।

নিহত জয় চন্দ্র সরকার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর কৈবত্যপাড়া গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের বড় ছেলে। তিনি কলকাতার পার্শ্ববর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাতে অবস্থিত বেসরকারি ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটির বিটেক (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ আগস্ট রাত প্রায় ৮টার দিকে জয় চন্দ্র সরকারের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের মেসেঞ্জারে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি তার বাবা রঞ্জিত সরকারকে বার্তা পাঠিয়ে জানান, জয় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। হঠাৎ এমন সংবাদে পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে পড়েন। পরিবারের দাবি, জয় চন্দ্র সরকার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন এমন কোনো লক্ষণ তারা আগে কখনও দেখেননি। নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন তিনি এবং পড়াশোনা নিয়েও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করতেন। তাই তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।ভারতীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহজনক এক নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারাসাত থানায় আটক রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

নিহতের বাবা রঞ্জিত চন্দ্র সরকার বলেন, “আমার ছেলে মেধাবী ছিল। সে আত্মহত্যা করতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শাস্তি চাই। তিনি আরও জানান, জয় চন্দ্র সরকার ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পরে বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ২০২৫ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের বারাসাতে অবস্থিত ব্রেইনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন এবং সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন। জয়ের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর কৈবত্যপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা তার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোকবার্তা পোস্ট করছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জয় ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে পরিবার ও দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন ছিল তার।

এ বিষয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থাসহ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দুই দেশের প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতে অবস্থানরত জয় চন্দ্র সরকারের সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যেও উদ্বেগ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়