আমিনুল জুয়েল, আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : আগের মত মাছ বাজারে নেই মানুষের ভীড়। নেই হাঁক-ডাক। কমেছে মানুষের উপস্থিতি। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছে মাছের দোকান। কাঙ্খিত মাছ পাওয়া যেনো দায় হয়ে পরেছে এখন। একটু ফাঁকা জায়গায় পেতেছেন দোকান। নিজেদের মাছ বিক্রির জায়গা ছেড়ে অন্যত্র দোকান পেতেছেন তারা। সরু গলির বন্ধ দোকানের ছাউনির নীচে বসে মাছ বিক্রি করছেন তারা। ফলে কমেছে বিক্রি। আর ড্রেনের মাটি পাশেই স্তুপ করে রাখার ফলে কমেছে ক্রেতা। অনেকেই কাঠের বা বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন। তবে বৃষ্টির পানি সরাসরি ঢুকছে দোকানে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দোকানীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন ড্রেন নির্মান কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিক্রি কমেছে। মাটি খননের পর স্তুপ করে পাশেই রাখা হয়েছে। ফলে কেউ এখন মাছ বাজারে আসছে না। আবার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এক গিরা পানি জমছে বাজারে। জায়গার সংকুলান না হওয়ায় ফুটপাতে মাছ বিক্রি করার ফলে লোকজনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। দামও ভাল পাওয়া যায় না। গেল আড়াই মাস এভাবেই মাছ বিক্রি করছেন বগুড়ার আদমদীঘির মাছ ব্যবসায়ীরা।
ছোট একটি ফুটপাতে অন্যের দোকানের সামনে বসতে গেলে তারাও মেজাজ দেখায়। মূল দোকানের মালিকরাও ইতস্ত: বোধ করছেন। সকাল ৯টার মধ্যেই মাছ বিক্রি শেষ করতে হয়। তানাহলে মূল দোকানে সমস্যা সৃষ্টি হয়। এদিকে, ড্রেন খোঁড়ার মাটি পাশেই স্তুপ করে রাখায় যাতায়াত কঠিন হয়ে পরেছে। আর বৃষ্টির সময় সরাসরি দোকানে ঢুকছে পানি।
উপজেলার মাছ বাজারে নতুন করে ড্রেন নির্মাণ কাজের ধীরগতির ফলে চরম বিপাকে পরেছেন ব্যবসায়ীরা। তিন মাস পার হলেও ড্রেন নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় বিপাকে পরেছেন স্থানীয় লোকজন, মাছ ব্যবসায়ী ও দোকানিরা। নতুন করে ড্রেন খোঁড়াখুঁড়ি করার ফলে ফুটপাতেই মাছ বিক্রি করছেন ভাসমান মাছ ব্যবসায়ীরা। এতে ক্রেতাদেরও বেড়েছে সীমাহীন দূর্ভোগ।
সরেজমিনে মাছ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, শেডের বাইরের মাছ ব্যবসায়ীরা যেখানে জায়গা পেয়েছেন সেখানেই দোকান মেলেছেন। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় শেডের নীচেও এক গিরা ময়লা পানি। অনেকেই কাঠের ত্ক্তা দিয়ে যাতায়াত করছেন। কিন্তু সেটিও নড়বড়ে-ঝুঁকিপূর্ণ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌসুমী অনেক মাছ ব্যবসায়ী জায়গার অভাবে এই বাজারে আসেনা।
পারইল গ্রামের মাছ ব্যবসায়ী রানা, মনির হোসেন ও আমির জানান, ‘বসায় জায়গা নেই। স্বস্তি নিয়ে কাজ করতে পারছিনা। বিক্রিও কমেছে। যেখানে বসে আছি-সকাল নয়টার পর সেটা ছাড়তে হয়। মুদি দোকানীরা দোকান পাতে। অনেকেই এই বাজারে আর আসেনা। গ্রামে ফেরি করে মাছ বিক্রি করে।’
আরেক মাছ ব্যবসায়ী শ্রী উৎপল জানান, ‘জানিনা কবে আগের জায়গায় ফিরতে পারবো। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুধু আশ্বাস দেয় যে কাজ খুব দ্রুত শেষ হবে। প্রায় তিন মাস এভাবে মাছ বিক্রি করছি। যেখানেই একটু জায়গা পাই, সেখানেই বসি। মাছ বাজারে বিশৃংখলার অনেকেই বাজারে আসে না। ফেরি করে যারা মাছ বিক্রি করে তাঁদের কাছে মাছ কেনেন। এজন্য কমেছে রোজগার।’
রুহুল আমীন নামের এক মুদি দোকানী জানান, ‘খোঁড়াখুরি শুরু হয়েছে প্রায় তিন মাস হলো। কাজের অগ্রগতি নেই। দক্ষিন পাশের দোকানের সামনের ফুটপাত খুড়ে ড্রেন নির্মাণ কাজ চলছে। মাটি স্তুপ করে রাখা হয়েছে পাশেই। এজন্য কেউ আর দোকানে আসতে পারে না। অনেকে আবার কাঠের সাঁকো তৈরি করেছে। বৃষ্টি হলেই বাঁধে বিপত্তি। দোকানের মধ্যে ঢুকতে থাকে বৃষ্টির পানি। সব মিলিয়ে যেন এক নাজেহাল অবস্থা।’
দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন, মুদি দোকানী ও মাছ ব্যবসায়ীরা।