শিরোনাম
◈ লাল কার্ড পে‌লেন ওলিস, ৬ গোলের রোমাঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ‌কে রুখে দিলো ভাইকিং ◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২১ ইউনিটের ৪ ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ◈ চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লিগ, ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড‌কে হারা‌লো অ‌্যাত‌লে‌তি‌কো মা‌দ্রিদ ◈ ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল, পরে যা জানা গেল ◈ ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়! ◈ ইয়ে‌মে‌নের নি‌র্দেশ, সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনা খালি করো, রিয়াদে পাল্টা হামলা চালা‌নো হ‌বে ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপে দেশের পোশাকশিল্প: প্রবৃদ্ধির আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশিত : ০২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:২২ সকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হবিগঞ্জে বিএনপি নেতাসহ ১৩ জনের কাছে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে বিএনপি নেতাসহ ১৩ জনকে ডাকযোগে কাফনের কাপড় ও চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মীর খোরশেদ আলমসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় জানা যায়, গত বুধবার (২৯ জুলাই) মাধবপুর ডাকঘরের মাধ্যমে রেজিস্ট্রি করা একটি পার্সেল আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে পৌঁছায়। পরে চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলম পার্সেলটি খুলে দেখতে পান, এর ভেতরে পৃথক পৃথক নামে ১৩টি খাম রয়েছে। প্রতিটি খামের মধ্যে কম্পিউটারে টাইপ করা হুমকিমূলক চিঠি এবং একটি করে কাফনের কাপড়ের টুকরা পাওয়া যায়।

চিঠিতে মীর খোরশেদ আলমকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় লেখা হয়, চিঠি পাওয়ার পর তার হাতে আর মাত্র কয়েকদিন সময় আছে। আগুন নিয়ে খেলার পরিণাম তাকে ভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলী, আব্দুল গফুর, কন্ট্রাক্টর মিজান, বজলু, সৈয়দ শিব্বির আহমদ, সৈয়দ আনাস, সৈয়দ তালহা, সৈয়দ তানজির ও সৈয়দ নোমানসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

এছাড়া চিঠিতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের মধ্য থেকে একজনকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর হত্যা, মিথ্যা মামলা, চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করারও হুমকি দেওয়া হয়েছে। চিঠির শেষে ‘সচেতন যুব সমাজ’ নামে স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়।

এতে বিশেষ দ্রষ্টব্য হিসেবে লেখা হয়, ‘চিঠির সঙ্গে অগ্রিম কাফনের কাপড়ের নমুনা পাঠালাম, বাকিটা কিনে রাখিস।’

ঘটনার পর মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকেও অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে চিঠি প্রেরণকারীকে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন।

আদাঐর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শফিকুর রহমান শফিক বলেন, চেয়ারম্যানের নামে পার্সেলটি আসার পর খোলা হলে সেখানে একাধিক হুমকিমূলক চিঠি ও কাফনের কাপড় পাওয়া যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

মীর খোরশেদ আলম বলেন, আমি জেনেশুনে কারও কোনো ক্ষতি করিনি। কারও কোনো অভিযোগ বা ক্ষোভ থাকলে সরাসরি এসে বলতে পারে। অনেক সময় আমাকে নিয়ে ভুল তথ্যও প্রকাশ হয়, তবুও আমি প্রতিক্রিয়া দেখাই না। এ ধরনের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছি।

মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান হামদু বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির নেতাকে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকির মাধ্যমে কাউকে দমিয়ে রাখা যায় না।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, এ ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। পার্সেল ও চিঠিটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত তা শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, চিঠিটি নবীগঞ্জ থেকে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ