শিরোনাম
◈ লাল কার্ড পে‌লেন ওলিস, ৬ গোলের রোমাঞ্চে বায়ার্ন মিউনিখ‌কে রুখে দিলো ভাইকিং ◈ রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনবে সরকার ◈ টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ২১ ইউনিটের ৪ ঘন্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ ওমান প্রবাসীদের জন্য জরুরি খবর! ◈ বাংলাদেশে ই-বর্জ্য থেকে বছরে ৫০ কোটি ডলারের সম্পদ উদ্ধারের সুযোগ, ঝুঁকিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ◈ চ‌্যা‌ম্পিয়ন্স লিগ, ম‌্যান‌চেস্টার ইউনাইটেড‌কে হারা‌লো অ‌্যাত‌লে‌তি‌কো মা‌দ্রিদ ◈ ময়মনসিংহে স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল, পরে যা জানা গেল ◈ ফরিদপুর মেডিকেলে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি টাকার সরকারি অর্থের অপচয়! ◈ ইয়ে‌মে‌নের নি‌র্দেশ, সৌদি আরবের আরামকো স্থাপনা খালি করো, রিয়াদে পাল্টা হামলা চালা‌নো হ‌বে ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার চাপে দেশের পোশাকশিল্প: প্রবৃদ্ধির আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৩০ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

একই জমিতে একাধিক লাইসেন্স, ফিল্ড কানুনগো মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ইফতেখার আলম বিশাল: বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রেলের কৃষিজমির লাইসেন্স প্রদান নিয়ে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, তথ্য গোপন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। পাবনার কাশীনাথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম দাবি করেছেন, বৈধভাবে লাইসেন্স পাওয়ার পরও একই জমি অন্যদের নামে নিয়মবহির্ভূতভাবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সেটি ধামাচাপা দিতে তাকে এক নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করতেও চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী নগরীর একটি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রেজাউল করিম।

লিখিত বক্তব্যে রেজাউল করিম জানান, পাবনা জেলার কাশীনাথপুর মৌজার জে.এল. নং-১৭৩-এর ৮৪৭ নম্বর দাগের ০.৯১৫ একর রেলওয়ের কৃষিজমি চাষাবাদের জন্য তিনি আবেদন করেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) কর্তৃপক্ষ ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তার নামে বৈধভাবে লাইসেন্স ইস্যু করে।

কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, তার লাইসেন্স কার্যকর থাকা অবস্থাতেই একই জমি চারজন অন্য ব্যক্তির নামে আগের তারিখ দেখিয়ে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। তার অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা ও লাইসেন্স প্রদানের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে একই জমি নিয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি বৈধ লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

Advertisement

রেজাউল করিমের ভাষ্য, বিষয়টি নিয়ে ফিল্ড কানুনগো মো. মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেননি। বরং অনিয়ম আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাকে পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের উচ্চমান সহকারী তাপসী সুলতানার বিরুদ্ধে দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। ভয়ভীতির মুখে তিনি সেই অভিযোগ করেছিলেন বলে উল্লেখ করে এখন দাবি করছেন, অভিযোগটি সত্য ছিল না; চাপের মুখেই তাকে এমন বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে শুধু তার লাইসেন্স নয়, পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের লাইসেন্স ব্যবস্থাপনায় আরও নানা অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। তাই তিনি তার বৈধ লাইসেন্স পুনর্বহাল, পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

একই জমির আরেক লাইসেন্সধারী আরিফুজ জামান নান্টু বলেন, “জমিটি বর্তমানে আমার বৈধ দখল ও ভোগদখলে রয়েছে। তবে আমার নামে লাইসেন্স কার্যকর থাকা সত্ত্বেও একই জমি আরও কয়েকজনের নামে লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। এতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত লাইসেন্সধারীদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) পাকশী ভূ-সম্পত্তি বিভাগের ফিল্ড কানুনগো মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাকে আটবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) পাকশী ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “এ ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সধারীদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ফিল্ড কানুনগোর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

রেলওয়ের জমির লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিরূপণে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী।

  • সর্বশেষ