সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার : কক্সবাজারের মহেশখালীতে উন্নয়ন প্রকল্পের নাম দিয়ে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া ভালো উত্তোলন করায় ম্যাক্স কোম্পানিকে অর্ধ কোটি টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
পরিবেশগত ছাড়পত্র না থাকায়পরিবেশ অধিদপ্তর ৫০ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছে (ম্যাক্স কোম্পানি) কে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টোকিও-এমআইএল (জেভি)-কে ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
রবিবার পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ে শুনানি শেষে এ জরিমানা করা হয়। বিষয়টি গতকাল বিকেলে নিশ্চিত করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা।
পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সোনিয়া সুলতানা স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও প্রতিবেশগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্ধারিত ৫০ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮০ টাকা সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানা গেছে, মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের (সওজ অংশ) আওতায় মাতারবাড়ী পোর্ট অ্যাক্সেস সড়ক নির্মাণের জন্য মহেশখালী চ্যানেলের হামিদারদিয়া ও ঠাকুরতলা মৌজা থেকে ৬ কোটি ৩৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৮২ ঘনফুট বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হয়। গত ২ এপ্রিল জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি ১৩টি শর্ত সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটিকে এ অনুমতি দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, অনুমতি পাওয়ার পর থেকে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) ছাড়াই কক্সবাজারের মহেশখালী চ্যানেল এবং মহেশখালী উপকূল থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এ বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন থেকে দেয়া ১৩টি শর্তের অধিকাংশই মানা হচ্ছে না।
কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলছেন, স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) না করে এভাবে নির্বিচারে বালু তুললে এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশ ভয়াবহ সংকটে পড়বে।
পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের আরোপিত শর্তগুলোরও যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে মহেশখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, কোন কিছুর তোয়াক্কা না করেই ওরা নিজেদের মতো করে বালু উত্তোলন করছে। এতে করে পরিবেশ প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে। এভাবে মহেশখালী চ্যানেলের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবেই চলতে থাকলে মহেশখালী পরিবেশ প্রকৃতি চরম হুমকির মধ্যে পড়বে।