শিরোনাম
◈ আইন প্রণয়ন ও কমিটি গঠনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ টিআইবির ◈ বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ ◈ এনআইডি সংশোধনে মাঠ পর্যায়ে নিষ্পত্তি, অনলাইনে হবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন ◈ পূর্বশত্রুতার জেরে রাজধানীতে বিএনপি কর্মী খুন ◈ ঘুষিকাণ্ডে বিতর্কে জড়ানোর পর প্রথমবার মুখ খুললেন পারেদেস ◈ গোপন ফুটেজে উন্মোচিত কেলেঙ্কারি, পদ হারান যেসব বিশ্বনেতা ◈ বিদায়ী অর্থবছরের ১১ মাসে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব ◈ বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে দুবাইয়ের প্রশ্নের জবাব প্রস্তুত করছে দুদক ◈ যে কারণে ভিসা চালু হলেও ভারতে যাচ্ছেন না বাংলাদেশিরা ◈ যে দিন ৬ মিনিট অন্ধকারে ডুবে থাকবে পৃথিবী!

প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৭:২৫ বিকাল
আপডেট : ২১ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এটি সড়ক নয়, যেন মৃত্যুফাঁদ : ৫ বছর ধরে দুর্ভোগে কুমিল্লার টমছম-কোটবাড়ি সড়কের লাখো মানুষ

শাহাজাদা এমরান, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা : কুমিল্লা নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সড়কটি এখন আর সড়ক বলে মনে হয় না, যেন ছোট-বড় অসংখ্য পুকুরের সমষ্টি। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বড় বড় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। তখন কোনটি রাস্তা আর কোনটি গভীর গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার মানুষ। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে দুর্ভোগের এই চিত্র দেখে প্রশ্ন উঠেছে, কুমিল্লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েনি?

কুমিল্লা নগরীর প্রাণকেন্দ্রের সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন ও সামরিক স্থাপনাগুলোর যোগাযোগের একমাত্র ভরসা এই সড়ক। অথচ বছরের পর বছর ধরে এটি পড়ে আছে অবহেলায়। বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলো ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয়। এতে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবী, পর্যটক ও সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। হালিমানগর এলাকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট দীর্ঘ একটি গর্ত এখন ছোট পুকুরের রূপ নিয়েছে। একই অবস্থা কোটবাড়ি বিশ্বরোডের পূর্ব পাশেও। বৃষ্টির পানিতে এসব গর্ত ঢেকে যাওয়ায় যানবাহন চালকদের জন্য সড়কে চলাচল অনেকটা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে।

এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড), কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা সেনানিবাস, বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তর, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (বিএআইইউএসটি), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, র‍্যাব কার্যালয়, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ, সার্ভে ইনস্টিটিউট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আঞ্চলিক কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। এছাড়া ময়নামতি জাদুঘর ও শালবন বৌদ্ধ বিহারসহ কোটবাড়ি এলাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাওয়া-আসার জন্য দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটকও এই সড়ক ব্যবহার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পাঁচ বছর ধরে এই সড়কের স্থায়ী সংস্কার হয়নি। মাঝেমধ্যে ইট-সুরকি ফেলে দায়সারা মেরামতের চেষ্টা করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

কোটবাড়ি এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রমিজ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে ভয় লাগে। একটু বৃষ্টি হলেই কোথায় গর্ত আর কোথায় রাস্তা বোঝা যায় না। প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। পাঁচ বছর ধরে আমরা শুধু আশার কথা শুনে আসছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আক্তার হোসেন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী হাসপাতালে আসেন। অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলাচল করতেও সমস্যা হয়। রোগীদের কষ্ট দেখে খুব খারাপ লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই
গ্রহণযোগ্য নয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু হেনা রনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি বাস প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বাসের চালকেরাও আতঙ্কে থাকেন। দেখে মনে হয় না, এই সড়কের কোনো অভিভাবক আছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি সড়কের দুরবস্থা নয়; এটি কুমিল্লার শিক্ষা, চিকিৎসা, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই সড়ক অনেকটা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ভোগান্তি নিরসনে আশার কথা শুনিয়েছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, টমছম ব্রিজ থেকে কোটবাড়ি বিশ্বরোড পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কসহ শহরতলির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বর্ষা মৌসুম শেষ হলে সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
কুমিল্লাবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই—আর কতদিন অপেক্ষা? পাঁচ বছরের দুর্ভোগের পর অন্তত এবার
কি মিলবে একটি নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী সড়ক? নাকি আগামী বর্ষাতেও সড়কের গর্তগুলো
ছোটখাটো পুকুর হয়ে উপহাস করবে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ববোধকে?

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়