বগুড়ার ধুনটে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মুঠোফোনে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় ধুনট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজার রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোড়শিমুল গ্রামের এক দিনমজুরের ছেলে প্রায় ছয় মাস আগে কান্তনগর গ্রামের আদম ব্যবসায়ী মাহমুদুল ও ঝাঝর গ্রামের আরিফুলের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। বিদেশে পাঠানোর জন্য ওই দুই দালাল প্রবাসীর পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা নিলেও সেখানে পৌঁছানোর পর তার কোনো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তিনি চরম মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় প্রবাসীর মা অভিযুক্তদের কাছে ছেলের বিষয়ে জানতে গেলে একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে গত ২১ জুন তিনি বাদী হয়ে দুই দালালের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগটির তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর এসআই মোস্তাফিজার রহমান বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে তিনি তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দালালদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ায় অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি বলেও পরিবারের দাবি।
প্রবাসীর স্ত্রীর দাবি, এসআইয়ের আপত্তিকর কথোপকথনের একাধিক অংশ তিনি কৌশলে নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেন। পরে সেসব অডিও ক্লিপ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে পৌঁছে যায়। এর মধ্যে একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশ সুপারের নির্দেশে রোববার মধ্যরাতে এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এসআই মোস্তাফিজার রহমানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ চাকরি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।