শিরোনাম
◈ স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের ৫ লাখ থেকে ৫ কোটি টাকা সহায়তা দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ ঘরে বসেই এখন জমির গুরুত্বপূর্ণ নথি অনলাইনে খুঁজবেন যেভাবে ◈ চলমান এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি থাকলে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ◈ নতুন দায়িত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ ২০ জুলাই শরিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এখনো পাননি অনেক নেতা ◈ ফের জেন-জি বিদ্রোহে টালমাটাল নেপাল, বালেন্দ্র শাহের পদত্যাগ দাবি (ভিডিও) ◈ এবার বিএনপি নেতাকে লাথি দেওয়া এমপির ভিডিও ভাইরাল ◈ ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যের প্রতিবাদে সড়কে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ◈ দেশের বাজারে আরেক দফা কমল স্বর্ণের দাম ◈ ডি‌সেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বাস্তবতা কতটা?

প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০১:০৫ দুপুর
আপডেট : ১৪ জুলাই, ২০২৬, ০১:২৫ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

জোটে দূরত্ব কমানোর ইঙ্গিত

২০ জুলাই শরিকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ এখনো পাননি অনেক নেতা

মনিরুল ইসলাম: প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২০ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সরকার গঠনের পর শরিকদের সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে তার প্রথম বৈঠক। বৈঠক শেষে একটি নৈশভোজেরও আয়োজন রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তবে বৈঠক ঘিরে এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ না পাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে। কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা বৈঠকের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে অবগত হলেও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক দাওয়াত পাননি।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক মঙ্গলবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান আমাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে শুনেছি। তা আনঅফিশিয়ালি। এখনো কোনো ফরমাল দাওয়াত পাইনি। সময় আছে, দেখা যাক কী হয়।”

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে শুনেছি। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাইনি। পেলে আপনাদের জানাব।”
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকটির সার্বিক সমন্বয় ও শরিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এবং আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-কে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য হলো জোটের অভ্যন্তরীণ দূরত্ব কমানো এবং শরিক দলগুলোর মধ্যে বিদ্যমান অসন্তোষ নিরসন। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন বণ্টন এবং সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে শরিকদের যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আলোচনায় আসবে।

এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণও বৈঠকের অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কারা থাকছেন আলোচনায়
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিরোধী দলগুলোর বাইরেও বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের এই মতবিনিময়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর শরিকদের সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। ফলে এটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদার এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির নেতৃত্বে যুগপৎ আন্দোলনে চারটি জোটসহ নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত মিলিয়ে মোট ৪২টি রাজনৈতিক দল সক্রিয় ছিল। নির্বাচনের সময় শরিকদের মধ্যে ১১টি দলকে ১৬টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি।

সরকার গঠনের পর শরিকদের মধ্য থেকে দুজন নেতা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেও অধিকাংশ দল এখনো সরকার কিংবা বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে প্রত্যাশিত প্রতিনিধিত্ব পায়নি বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন। এই প্রেক্ষাপটে ২০ জুলাইয়ের বৈঠককে জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়