নিনা আফরিন, পটুয়াখালী : সাগরে নিন্মচাপ,অমাবশ্যার জো এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টিপাতের কারনে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে পটুয়াখালীর রোপা আমনের অধিকাংশ বীজতলা।
একই সাথে পানির নীচে রয়েছে আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন ফসল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলায় ২ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে বলে প্রাথমিক হিসাবে তারা জানতে পেরেছে । এতে প্রায় কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
কলাপাড়া রাডার স্টেশন ও পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সুত্র জানায়, গতকয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর রোববার ভোর থেকে জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ১০০ মিলিমিটার এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় ২৩৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, আরও দুই দিন এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামের কৃষক তুহিন হাওলাদার জানান, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে এলাকার বেশীরভাগ গ্রামের ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। এতে রোপা আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। এতে কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ফরিদুল হাসান জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নদী আর ফসলের মাঠ একাকার হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকেরা। তিনি জানান,পটুয়াখালী পৌর শহরের অধিকাংশ সবজির জোগান দেয় লোহালিয়ার কৃষকরা। টানা বর্ষনের ফলে বেশীরভাগ সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আমন বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় বীজ পচে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এর ফলে শত শত একর জমি অনাবাদী থাকতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আমানুল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টিতে রোপা আমনের বীজতলা, আউশ ধান ও শাকসবজির ক্ষতি হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।