জিয়া উদ্দিন সিদ্দিকী, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের প্রবহমান গোডাঙ্গা খালে নেট দিয়ে মাছ চাষের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শতাধিক স্থানীয় ভূক্তভোগীরা অংশ নেয়।
জানা গেছে, এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন মিলে গোডাঙ্গা শ্লুইজগেট থেকে ২০ ফুট দুরে ঘনজালের নেট দিয়ে খালের মধ্যে বেড়া দিয়ে মাছ চাষের কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ঘনজালের বেড়া দেওয়ায় প্রবাহমান খালের পানি ওঠানামা কমে গেছে। পানি ওঠা নামা কমে যাওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
ভূক্তভোগি ও কৃষকরা জানান, ওই খালের পানি দিয়ে খালের দুই পাড়ের বসবাসরত পরিবারগুলো কৃষিকাজসহ পারিবারিক, গৃহস্তলির কাজ ও গরু ছাগলের গোসলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকেন। এমনকি দু'পাড়ে বসবাসরত পরিবারগুলোর মধ্যে অনেকেই ওই খাল থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১ টায় গোডাঙ্গা খালের পাড়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু জাফর মিয়ার সভাপতিত্বে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে এলাকার শতাধিক নারী পুরুষ অংশ নেয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন, ভূক্তভোগি জালাল হাওলাদার, মো. হারুন তালুকদার, আলতাফ হোসেন, সোহরাফ হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মাফিয়া বেগম ও মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ওই খালে মাছ চাষ করা হলে আমাদের ভোগান্তির আর কোন শেষ থাকবেনা।
ভূক্তভোগি মো. হারুন তালুকদার বলেন, স্থানীয় জাহিদুল ইসলাম মাষ্টারের তত্ত্বাবধানে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের মধ্যে ঘননেটের বেড়া দিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। এতে এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কোন শেষ থাকবেনা।
শহিদ হাওলাদার নামে এক ভুক্তভোগি জানান, খালে মাছ চাষ করার প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী জাকির হোসেন আমার বৃদ্ধ মাকে মারধোর করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু জাফর বলেন, মাছ চাষে শতশত কৃষকের ক্ষতি হবে। ওই খালের মাছ চাষ বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যদি প্রশাসন দ্রুত ওই খালে মাছ চাষ কার্যক্রম বন্ধ না করেন তাহলে জনসাধারণকে সাথে নিয়ে কঠোর আন্দোলন শুরু করা হবে বলে হুমকি দেন।
ওই বিষয় মো.জাহিদুল ইসলাম মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনা মাছ চাষের অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আমি এর সাথে আদৌ জড়িত নই। আফজাল মৃধা নামক জনৈক এক ব্যক্তি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেছেন। মাছ চাষের কারনে এলাকাবাসীর ক্ষতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বরং উপকার হচ্ছে।
আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.আশরাফুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।