শিরোনাম
◈ বন্যার ভয়াবহতা আরও বাড়ছে, ছয় বিভাগে আরও ভারী বৃষ্টির শঙ্কা ◈ মুস্তাফিজের ইনজু‌রি স‌ত্বেও ইংল‌্যা‌ন্ডে উড়ি‌য়ে নি‌চ্ছে বার্মিংহাম ফিনিক্স  ◈ চল‌তি বিশ্বকাপে খেলা দ‌ক্ষিণ আ‌ফ্রিকার ফুটবলারের মৃত্যু  ◈ ঢাকায় টানা বর্ষণ, ২৪ ঘণ্টায় ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড ◈ মারা গেছেন সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন ◈ বেলিংহামের জোড়া গোলে নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ◈ হরমুজ সংকট কাটাতে ওমানের নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ ◈ চাপ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস ◈ পলাতকদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা চলমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৩ জনের মৃত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৮ লাখ ৬৭ হাজার মানুষ

প্রকাশিত : ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ দুপুর
আপডেট : ১২ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পানিবন্দী অধিকাংশ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পৌছানো যাচ্ছে না ত্রাণ

কল্যান বড়ুয়া, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি। শনিবার (১১ জুলাই) বিকালে তিনি বন্যা দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত কিছু পরিবারের মাঝে ত্রাণ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। 

পরিদর্শনকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি বলেন, বাঁশখালীর পানিবন্দী মানুষ ও দুর্যোগে কষ্টে পাওয়া মানুয়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শুকনো খাবার ও চাউলের প্যাকেট দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ে ক্রমে ক্ষতিগ্রস্থ সবার কাছে ত্রান ও সহযোগিতা পৌছে যাবে। যেখানে স্থানীয় প্রশাসন পৌঁছানো কঠিন, সেখানে আমাদের কোস্ট গার্ড় ও বাংলাদেশের স্বশস্ত্রবাহিনী আমাদের সাহয্য করছে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বাঁশখালী বাসীকে বার্তা দিতে চাই,যেটি শুধুমাত্র এ মুহুর্তে খাদ্য সহায়তা শেষ নয়,তাদের ঘুরে দাঁড়াবের জন্য, সরকারের তরফ থেকে যা যা সহায়তা প্রয়োজন অর্থ্যাৎ তাদের যে সমস্ত বাড়ি ঘর পুর্নবার্সন ও নতুন করে মেরামত করা প্রয়োজন সেখানে সরকার সহায়তা দিবে,যেখানে ক্ষেতের ফসলের ক্ষতি হয়েছে, গবাদি পশুর, মাছের ঘের ভেসে গেছে ক্ষতি হয়েছে সে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার জন্য জনগনের সরকার, তারেক রহমানের সরকার তাদের পাশে থাকবে।এ কার্যক্রম জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সবার সমন্বিতভাবে পরিচালিত হবে  বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম (বিপিএম), চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) মো: মোতাহার হোসেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ)মো: কামরুজ্জামান,বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ওমর সানি আকন, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: রবিউল হক,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার মোহাম্মদ লোকমান,চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য আমিনুর রহমান চৌধুরী, সদস্য দেলোয়ার আজিম, বাহারচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী ইউনুস মুন্সি, মো: জালাল উদ্দিন চৌধুরী সহ বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পানিতে বন্দী বাঁশখালীর জনগন, ত্রাণ যাচ্ছে না ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় !

বাঁশখালীর বন্য পরিস্থিতি এখনোও বেশ কিছু স্থানে জমাটবদ্ধ পানি নেমে না যাওয়াতে উপকুলীয় ছনুয়া, বাহারছড়া, সরল, গন্ডামারা, শেখেরখীল, চাম্বল, কালীপুর ও শীলকুপের পশ্চিমাংশ, কাথরিয়া, পৌরসভার জলদী, খানখানাবাদ, বৈলছড়ি, সাধনপুর, পুকুরিয়া, পুইছড়ি এলাকার বেশ কিছু পানিবন্দী ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানিয় জলের সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। যে সব কাঁচা দেওয়ালের বাড়ি ঘর বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়েছে সেসব বাড়িঘর কিছুক্ষণ পর পর ভেঙ্গে পড়ছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখনো সুনিদিষ্ট তথ্য দিতে না পারায় কি পরিমান বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তার প্রকৃত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট তপ্তরে।

স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্থ জনগন ও সরজমিনে পরিদর্শন কালে দেখা যায়, উপজেলার কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে গেছে। প্রায় লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। কৃষির সবজি ও  ফসলী জমি, মাছের প্রজেক্ট ও পোলট্রি খামার ধ্বংস হয়েছে।

বন্যার পানিতে  সরলে ১ জন, বাহারছড়ায় ২ জন তিন শিশু মারা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে প্রায় শতাধিক ।বাঁশখালীর প্রধান সড়কের বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল ও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়ক ভেঙে বা পানিতে বিলীন হয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।এমনকি বাহারছড়ায় পানিবন্দী থাকায় মৃত্যুর পর দাফনের জন্য শুকনো মাটিও পাওয়া না যাওয়াতে বাধ্য হয়ে পানির ওপর ভাসমান অবস্থায় মরদেহ রেখে জানাজার নামাজ আদায় করতে হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, বাঁশখালীর ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যাগুলোর একটি। পুরো বাঁশখালীর পশ্চিমাংশের অধিকাংশ এলাকার জনগন এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে সময় পার করছে। তবে গতকাল শনিবার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রান দেওয়ার জন্য আসলে ও পানির জন্য ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে না পারায় রাস্তার আশে পাশে এলাকার লোকজনকে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন যে সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রান দিতে আসবে তাদের প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করার কথা বলা হলেও সেটা করেনি অধিকাংশ সংগঠন।

এদিকে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া, বাঁশখালীর ইউনিয়নের দক্ষিণ ইলশা গ্রামের প্রবাসী মোহাম্মদ কামালের পুত্র মোহাম্মদ আশফাক উদ্দিন (১১) এবং ৩নং ওর্য়াডের রতœপুর এলাকার মোহাম্মদ দেলোয়ারের দ্বিতীয় পুত্র মোহাম্মদ মিরাজ (৮), সরলের ভাদালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রী পশ্চিম জালিয়াঘাটা এলাকায় আব্দুল করিম ও রোজিনা আক্তারের কন্যা তাহিন নুর (৯) এর পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয় শনিবার বিকালে। এ সময় বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: ওমর সানি আকন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকার, উপজেলা প্রকৌশলী, ডাক্তার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিল।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়