মো. কামরুল ইসলাম, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের যুবক সুজন মিয়া ঢেঁড়স চাষ করে বেকারত্ব কাটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। অল্প খরচে লাভজনক এ চাষে সফলতা পাওয়ায় তাঁর দেখাদেখি এলাকার আরও অনেক তরুণ ও কৃষক ঢেঁড়স চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
কয়েক বছর আগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন সুজন। বাবার অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে দীর্ঘদিন কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে কৃষিকেই জীবিকার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। বাড়ির পাশের এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে শুরু করেন ‘বারি ঢেঁড়স-১’ জাতের চাষ। প্রথম মৌসুমেই পেয়েছেন আশাব্যঞ্জক ফলন ও ভালো বাজারদর।
সুজন মিয়া বলেন, “এক বিঘা জমিতে ঢেঁড়স চাষে প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঢেঁড়স বিক্রি করেছি। একদিন পরপর ঢেঁড়স সংগ্রহ করতে হয়। অতিরিক্ত শ্রমিকের প্রয়োজন হয় না। পাইকাররা সরাসরি জমি থেকেই ঢেঁড়স কিনে নিয়ে যান।”
তিনি জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যয়ও তুলনামূলক কম হয়েছে এবং লাভের পরিমাণ বেড়েছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, ‘বারি ঢেঁড়স-১’ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত একটি উচ্চ ফলনশীল ও ভাইরাস প্রতিরোধী জাত। এটি সারা বছর চাষ করা যায়। চারা রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রতি একরে ৭ থেকে ১০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ঢেঁড়সে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হয়েছে। ‘বারি ঢেঁড়স-১’ জাতের ফলন ভালো এবং এটি লাভজনক। বর্তমানে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বাণিজ্যিক সবজি চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, সুজন মিয়ার এ সাফল্য প্রমাণ করেছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করলে অল্প পুঁজিতেও লাভজনক উদ্যোগ গড়ে তোলা সম্ভব।