শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বিদ্রোহী ঠেকাতে কঠোর বিএনপি, প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা-সততায় নজর ◈ ইরান যুদ্ধে ছয় মাসে বদলে গেছে যে ৬ সমীকরণ ◈ পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা ◈ নেপালের আকস্মিক বন্যা: বাংলাদেশে কতটা ঝুঁকি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা ◈ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না গাজীপুরের যেসব এলাকায় ◈ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে ৪০০ জাহাজ-ছয় হাজার নাবিক ◈ মক্কা চুক্তিসহ বাংলাদেশের সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত ◈ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে যে শর্ত মানতে হবে, জানালেন সোহেল তাজ ◈ ইমরান খা‌নের দুই ছে‌লের বিস্ফোরক মন্তব‌্য, বাবাকে স্পষ্ট হত্যা করার চেষ্টা চল‌ছে ◈ অবশেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

প্রকাশিত : ০৫ জুলাই, ২০২৬, ০৬:২৮ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অ.ণ্ডকোষ চেপে জোর করে চেকে স্বাক্ষর আদায়, মুখ খুললেন ভুক্তভোগী (ভিডিও)

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালে অগ্রণী হাউজিং (আবাসন) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করেছেন, তাকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক এবং একাধিক সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের সময় অণ্ডকোষ চেপে ধরা ও শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্দুল আজিজ বলেন, হামলাকারীরা প্রথমে তার অণ্ডকোষ এমনভাবে চেপে ধরেন যে তিনি শ্বাস নিতে পারছিলেন না। এরপর তাকে চেয়ার থেকে ফেলে বুকে পা দিয়ে ও গলা চেপে ধরে চেক দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

তিনি বলেন, "তখন আমার মনে হচ্ছিল, জীবনটাই হয়তো শেষ হয়ে যাবে। প্রাণ বাঁচানোর জন্যই আমি ড্রয়ার থেকে চেক বের করে দিই।"

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে একটি ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর নেন। পরে ৭০ লাখ টাকা লিখে আরেকটি চেকে স্বাক্ষর করানো হয়। এরপর তাদের সঙ্গে থাকা দুটি সাদা স্ট্যাম্পের ছয়টি পাতায় তার স্বাক্ষর ও প্রতিষ্ঠানের সিল নেওয়া হয়।

এরপর তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। সেখানে অভিযুক্তরা অভিযোগ করেন যে, তার কাছে তাদের পাওনা টাকা রয়েছে এবং থানার মাধ্যমে সালিশ করতে চান। তবে থানার তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ গ্রহণ ছাড়া সালিশ করা সম্ভব নয় বলে জানান। পরে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয় এবং সালিশের জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আব্দুল আজিজ বলেন, ওই সময় নিজের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি থানায় জানাতে পারেননি। কারণ, তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন। তাঁর ভাষায়, "আমি যদি তখন কিছু বলতাম, তাহলে হয়তো আমাকে মেরে ফেলত। সেই ভয়ে আমি কিছুই বলিনি।"

তিনি জানান, ঘটনার পর কয়েকদিন আতঙ্ক ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ছিলেন। পরে স্বজনদের পরামর্শে আদালতের আশ্রয় নেন। তার দাবি, অভিযুক্তদের সঙ্গে তার আর কোনো আর্থিক লেনদেন নেই। তিন বছর আগেই সব হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি হয়েছে। এরপরও জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের জেরেই ওই ঘটনায় তারা কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন।

  • সর্বশেষ