শিরোনাম
◈ অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে ইসরায়েলের বিশ্বজুড়ে নজরদারি, বাদ যায়নি পেন্টাগন-ন্যাটো-জাতিসংঘও ◈ ল্যাবে তৈরি ভয়ংকর মাদক ‘কুশের’ ভয়ংকর বিস্তার, আসক্ত হচ্ছে শিক্ষিত তরুণরা ◈ সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী, পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের নির্দেশ ◈ দেশভাগের ৭৯ বছর পর ব্রহ্মপুত্র দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য পাঠাল ভারত ◈ জাপানকে ছাড়িয়ে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হতে যাচ্ছে ভারত: আইএমএফ ◈ ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড, হাসপাতালে ভর্তি ১,৯৪৩ ◈ মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী বিনা খরচে নিয়োগ, অনুমোদন পাচ্ছে ৩৩৮ এজেন ◈ সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচন: শুক্রবার থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে বিএনপি ◈ কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির ◈ গাজীপুরে স্বামীকে পাশের ঘরে আটকে গার্মেন্টসকর্মীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৮:২১ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পুশইনের শিকার ছোট্ট রোজিনার বাড়ি ফেরার আকুতি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ভারতের কলকাতার একটি স্কুলে ক্লাস সিক্সে পড়–য়া ছাত্রী রোজিনা আক্তার। সেখানে বাবা মা আর পাঁচ ভাইবোন নিয়ে সুখেই কাটছিলো তাদের। সম্প্রতি ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাবা-মা বোনসহ ১১ জনকে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইন করে ভারতীয় বিএসএফ। যে চোখে একসময় স্বপ্ন দেখতো লেখাপড়া করে অনেক বড় হবে, আজ সে চোখেই পানির সাথে জমাট বেধেছে ভয় আর নিরাপত্তাহীনতার।

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাও সীমান্তে শুক্রবার দিবাগত রাতে নারী পুরুষ ও শিশু সহ ১১ জনকে পুশইন করে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ । ৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও হচ্ছে না সমাধান। দুইবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমেও মিলছেনা কোন সুরাহা। ফলে তিন দিন ধরে সীমান্তের জমিতেই বসে মানবেতর জীবন যাপন করছে তারা। কখনো রোদে পুড়ে আবার কখনো বৃষ্টিতে ভিজে খাওয়া, গোসল ছাড়াই বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই করছে প্রতিক্ষণ। ঠাকুরগাঁও মশালগাঁও সীমান্তের গ্রামবাসীরা মানবিক দৃষ্টিতে কিছু শুকনো খাবার দিলেও তা পর্যাপ্ত নয়। খুধা তৃষ্ণায় প্রতিবন্ধি ছোট ভাই আর ৯ মাসের অন্তস্বত্ত্বা মাকে নিয়ে তাই রোজিনার কান্না যেন থামছেই না। দ্রুত বাড়ি ফেরার আকুতি তার।

বিজিবি সুত্রে জানাযায়, গত ৫ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস এর কাছে বিএসএফ ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ, ৪ জন নারী ও ৪ জন শিশু রয়েছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ অভ্যন্তরে অবস্থান করছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তিরা জানান, তারা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দমদম এলাকায় বসবাস করতেন। গত ২৬ মে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের হেফাজতে নেয় এবং একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখে, যেখানে আরও প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ জন অবস্থান করছিলেন। পরে তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তাদের দাবি, ভারতীয় পুলিশের একটি গাড়িতে করে ৮৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বহরগাঁও ক্যাম্পে নেওয়ার পর একদিন সেখানে রাখা হয়। পরে ৬ জুন রাতের দিকে সীমান্তের দিকে পাঠানো হলে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে দিনাজপুর (৪২ বিজিবি) ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক চলমান রয়েছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দু পক্ষের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানের।

  • সর্বশেষ