শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বিদ্রোহী ঠেকাতে কঠোর বিএনপি, প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা-সততায় নজর ◈ ইরান যুদ্ধে ছয় মাসে বদলে গেছে যে ৬ সমীকরণ ◈ পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা ◈ নেপালের আকস্মিক বন্যা: বাংলাদেশে কতটা ঝুঁকি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা ◈ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না গাজীপুরের যেসব এলাকায় ◈ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে ৪০০ জাহাজ-ছয় হাজার নাবিক ◈ মক্কা চুক্তিসহ বাংলাদেশের সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত ◈ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে যে শর্ত মানতে হবে, জানালেন সোহেল তাজ ◈ ইমরান খা‌নের দুই ছে‌লের বিস্ফোরক মন্তব‌্য, বাবাকে স্পষ্ট হত্যা করার চেষ্টা চল‌ছে ◈ অবশেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

''৫৮ মাস ক্ষমতা আছে, যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে” : সাংবাদিকদের হুঁশিয়ারি এমপি মোবাশ্বের আলমের

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-১০ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।

সভায় তিনি কয়েকজন সাংবাদিককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে, আমি যেভাবে চাই সেভাবে চলতে হবে।’

শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি আপনাদের সহযোগিতায় এমপি হই নাই। গত ১৭ বছরে আপনাদের কাউকে নাঙ্গলকোট নিয়ে একটা নিউজ করতে দেখি নাই। সুতরাং ৫৮ মাস আমার ক্ষমতা আছে। আমি যেভাবে চাই, সেভাবে চলতে হবে।’

এ সময় তিনি নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের সভাপতি মজিবুর রহমান মোল্লাকে লক্ষ্য করে একাধিকবার ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে মন্তব্য করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়নি। বরং একপর্যায়ে তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেও বলা হয়।

সভায় অন্য সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে এমপি তাদেরও কড়া ভাষায় থামিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি বলেন, তার সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

একপর্যায়ে সাংবাদিক মাঈন উদ্দিন দুলালকে উদ্দেশ করে মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘ওনিও তথাকথিত বিএনপি। আমি এমপি হওয়ার পথে ছিলাম, উনি হাদিয়ার জন্য ফোন করেছেন। পরে আমি ওনাকে ব্লক মেরেছি।

পাশে বসা আরও দুই সাংবাদিককে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এখানে জামায়াতের আড্ডাখানা আছে। সব জেনেশুনেই আজকে বিষপান করতে বসছি।’

সভায় বক্তব্য দিতে চাইলেও নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জনিসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিককে থামিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সময় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে চাইলেও ‘সবুজ পত্র’ সম্পাদক জামাল উদ্দিন স্বপনকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া আরও বলেন, নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাব পুনর্গঠন করা হবে এবং সাংবাদিক হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করে সদস্যপদ দেওয়া হবে। এ জন্য নতুন গঠনতন্ত্র তৈরির কথাও জানান তিনি।

সভায় এমপির এমন বক্তব্য ও আচরণে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। যদিও পরিস্থিতি বিবেচনায় অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাননি। পরে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপির বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার কোনো অতিরিক্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ