শিরোনাম
◈ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ৫ বছরের উন্নয়ন চুক্তি করছে বাংলাদেশ, ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত বৈঠক ◈ কুমিল্লায় যুবদল নেতাকে কাউসারকে কুপিয়ে হত্যা ◈ ব্যাংককে আইএমএফ- বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন ঘিরে বিক্ষোভ, ঋণ বাতিল ও ধনীদের ওপর কর আরোপের দাবি ◈ ১৫ ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য ◈ হিলারি ক্লিনটনের হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেলেন ড. ইউনূস, দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন ৪০০ অতিথি ◈ বিমানবন্দরে স্যুটকেসে শ্যাম্পু-ক্রিমের বোতলে মিলল ৯২টি জীবিত সাপ-টিকটিকি, মেক্সিকান নাগরিক আটক ◈ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখাল নেদারল্যান্ডস, চীনের পর নতুন সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনে ◈ আমিরাতে সক্রিয় ছিল ইরানি ‘স্লিপার সেল’, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের তথ্য প্রকাশ! ◈ 'ইরান কখনও যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দি‌তে প্রস্তুত' ◈ নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যে কারণে ৭০ শতাংশ ভিসা বাতিল

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২৬, ০৭:৪৬ বিকাল
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এক যুগ আগে জনবল নিয়োগ থাকলেও নেই দৌলতপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন

ফয়সাল চৌধুরী : কুষ্টিয়ার অন্য পাঁচটি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলেও সীমান্তঘেঁষা দৌলতপুর উপজেলার মানুষের কপালে আজও জোটেনি। জমি অধিগ্রহণ ও মামলাসহ নানা জটিলতায়  থমকে যায় ৪৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের অন্যতম বৃহৎ এই উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া। এ যেন অবহেলার এক নগ্নরূপ। ফলে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে না এ উপজেলার প্রায় ৬ লাখ মানুষ। এক যুগ আগে জনবল নিয়োগ দেয়া হলেও অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে এখনও চালু হয়নি কাঙ্ক্ষিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন। 

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে (জানুয়ারি-এপ্রিল) ছোট-বড় অন্তত ১৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে গবাদিপশু, যা প্রান্তিক কৃষকদের নিঃস্ব করে দিয়েছে।

নদীবেষ্টিত ও কৃষিনির্ভর এ উপজেলায় ছোট-বড় অনেক শিল্পকারখানা থাকলেও অগ্নিনির্বাপণের কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে দমকল বাহিনী পৌঁছাতে দেরি হয়, এতে অনেক সময় আগুনে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে নিঃশেষ হয়ে যায়। ফলে সামান্য অগ্নিকাণ্ডেও বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে দিন কাটছে এই জনপদের বাসিন্দারা।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৩ সালে গঠিত ৪৬১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বিশাল উপজেলায় ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০০৯ সালে। তবে জমি অধিগ্রহণ ও মামলাসহ নানা জটিলতায় সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

Advertisement

এরপর ২০১৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একজন লিডার, দুজন ড্রাইভার ও ১০ জন ফায়ার ফাইটার নিয়োগ দেয়। কিন্তু গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় তাঁরা বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর দপ্তরে কর্মরত আছেন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক ওয়াদুদ হোসেন।

এদিকে ২০২২ সালে দৌলতপুর সদর ইউনিয়নের চুয়ামল্লিকপাড়ায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য ৮২ শতাংশ জমি দান করেন স্থানীয় বাসিন্দা হাসিনা বানু। সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। তবে চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে কাজ শুরু হয়নি।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক বলেন, নিয়োগপ্রাপ্তরা বর্তমানে কুষ্টিয়া স্টেশনে দায়িত্ব পালন করছেন। বাজেট বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, এরই মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের জন্য জমি নির্ধারণ করা হয়েছে সেখানে একটি পুকুর রয়েছে। পুকুরটি ভরাট করে সমতল করা দরকার। সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ ব্যাপারে বাজেট বরাদ্দ দিলেই অবকাঠামোগত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, দৌলতপুরের মতো একটি বৃহৎ উপজেলায় এখনও পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন না হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক। অনেক আগেই এটি হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন এর আগে জমি সংক্রান্ত জটিলতা ছিল, তবে সে সমস্যা কেটে গেছে। অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে যাতে দ্রুত কাজ শুরু করা যায় সে ব্যাপারে তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

  • সর্বশেষ