সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ, কুমিল্লা : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কুরসিয়া আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে নিহতের পরিবার, যদিও পুলিশ বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার গোয়ালমারী দক্ষিণ ইউনিয়নের নছরুদ্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কুরসিয়া একই গ্রামের মো. সাব্বির মিয়ার (৩৫) স্ত্রী এবং এক সন্তানের জননী।
জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ লেগেই থাকত। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী সাব্বিরের সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল।
ঘটনার রাতে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কুরসিয়া ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে খুঁজতে বের হন স্বামী। রাতের কোনো এক সময় কুরসিয়ার শ্বশুর তার পরিবারকে ফোন করে জানান, তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্বামী সাব্বির মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের বড় ভাই কবির হোসেন বলেন, “আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।” তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, “গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।