শিরোনাম
◈ মাত্র ২০ মিনিটে ৭ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দুবাই ◈ ‘আরেকটি বিপ্লব আসন্ন’, দেশবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জামায়াত আমিরের (ভিডিও) ◈ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী ◈ বন্ধু ইনফান্তিনোর ফোন ধরলেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফিফা প্রেসিডেন্টের বিদায় নিশ্চিত? ◈ বিশ্বকা‌পের পর সে‌প্টেম্ব‌রে লড়াইয়ে নাম‌ছে আর্জেন্টিনা, ম্যাচের নতুন সূচি প্রকাশ ◈ দেশের তরুণরা যেন এই স্মৃতির লেখক হয়, আমরা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে চলে গেলাম: ড. ইউনূস ◈ জোকো‌ভি‌চের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৪ হাজার কোটি টাকা আছে,  জরিমানায় কিছু যায়-আসে না, বল‌লেন‌ টে‌নিস তারকা জ্বেরেব ◈ আইপিএলে খেলার লোভ কর‌তে গি‌য়ে বিপাকে পাকিস্তা‌নের পেসার! নিজের দেশের লিগে খেলা নিয়েই সংশয় ◈ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন, কাল থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ◈ আজ জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৬ দুপুর
আপডেট : ০১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভারতের মাটির নিচে ৫০০ মিলিয়ন টন ‘স্বর্ণের পাহাড়’, তবু খনন হচ্ছে না কেন?

এনডিটিভি: ভারতের মাটির নিচে জমা হয়ে আছে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) টন স্বর্ণ আকরিক। অথচ এক অদ্ভুত বাস্তবতায় বাস করছে দেশটি। বিপুল এই সম্পদের ওপর বসে থেকেও ভারত প্রতি বছর বিদেশ থেকে কয়েকশ টন স্বর্ণ আমদানি করে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টিকে ভারতের জন্য একটি ‘স্বেচ্ছায় নেওয়া ক্ষত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রখ্যাত রাজনীতিক ও লেখক শশী থারুর।

তার মতে, ভারত এমন এক দেশ যেখানে স্বর্ণ শুধু অলংকার নয়, বরং আধ্যাত্মিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বছরে মাত্র দেড় টনের মতো—যা বিশ্ববাজারের তুলনায় নগণ্য। ফলে অস্ট্রেলিয়া, ঘানা বা পেরুর মতো দেশগুলো থেকে স্বর্ণ কিনতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার এক বিশাল অংশ বাইরে চলে যাচ্ছে।

যেসব কারণে পিছিয়ে আছে ভারতের খনি শিল্প

শশী থারুর এর পেছনে মূলত তিনটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন:

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা: ভারতের বর্তমান খনন নীতি অত্যন্ত প্রাচীন ও জটিল। একটি খনি চালু করতে যে পরিমাণ আইনি প্রক্রিয়া ও ছাড়পত্রের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তা বিনিয়োগকারীদের জন্য একপ্রকার দুঃস্বপ্ন।

অতিরিক্ত কর ও রয়্যালটি: ভারতে খনি খাতের ওপর করের হার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। ফলে মাটির গভীর থেকে স্বর্ণ তোলা অনেক কোম্পানির কাছে লাভজনক মনে হয় না।

পুরোনো মানসিকতা: সরকারকে খনিজ সম্পদ নিয়ে ‘সংরক্ষণবাদী’ মানসিকতা ত্যাগ করে ‘উদ্যোক্তা’ মানসিকতা গ্রহণ করতে হবে। আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্যই ভারতের খনি শিল্পের প্রধান বাধা।

সমাধানে যা করা যেতে পারে

প্রতিবেদনে থারুর বেশ কিছু সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবগুলো-

১. একক জানালা বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ক্লিয়ারেন্স: ২০ বছরের দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হবে। 

২. কর ছাড়: প্রাথমিক পর্যায়ে কোম্পানিগুলোকে বড় অংকের ট্যাক্স হলিডে বা কর ছাড় দিতে হবে যাতে তারা উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বর্ণ উত্তোলন করতে পারে। 

৩. পরিবেশবান্ধব খনন: অবৈধ বা মানহীন খনির বদলে বৈশ্বিক বড় সংস্থাগুলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব দিলে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা করেই স্বর্ণ তোলা সম্ভব। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও বাড়বে।

বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির অস্থির সময়ে স্বর্ণ হচ্ছে সবচেয়ে বড় ঢাল। ভারতের মাটির নিচের এই সম্পদকে যদি সম্পদে রূপান্তর করা না যায়, তবে দেশটিকে বিদেশের ওপরই নির্ভরশীল থাকতে হবে। শশী থারুরের ভাষায়, ভারতের মাটি সম্পদশালী, কিন্তু দেশের নীতি দরিদ্র। এখনই সময় এই লুকানো সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা। অনুবাদ: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়