শিরোনাম
◈ হাসিনা কলকাঠি নাড়ছেন, গুপ্তরা বাতাস দিচ্ছে: রিজভী ◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে

প্রকাশিত : ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে মাইন শনাক্তে ইরান বিপাকে, সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারছে না, কারণ তারা নিজেরাই পানিপথে পেতে রাখা সব নৌ-মাইনের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে এবং সেগুলো অপসারণের সক্ষমতাও সীমিত।

তাদের মতে, প্রণালিতে মাইন বসানোর সময় ইরান অত্যন্ত এলোমেলো পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল। ফলে কোথায় কতগুলো মাইন স্থাপন করা হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য রেকর্ড আছে কি না—তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। এমনকি যেসব মাইনের অবস্থান নথিভুক্ত ছিল, সেগুলোর কিছু পানির স্রোতে ভেসে স্থান পরিবর্তন করে থাকতে পারে।

advertisement

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি দ্রুত ও নিরাপদভাবে উন্মুক্ত করার জন্য চাপ বাড়ানো হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির কারণে ইরান তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারছে না বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর ইরান ছোট নৌযান ব্যবহার করে প্রণালিতে মাইন স্থাপন করে। এর সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি যুক্ত হওয়ায় তেলবাহী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন জাহাজের চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বাড়তে শুরু করে।

advertisement

বর্তমানে ইরান প্রণালির একটি সীমিত রুট খোলা রেখেছে, যেখানে নির্দিষ্ট শর্তে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করেছে, নির্ধারিত পথের বাইরে চলাচল করলে জাহাজগুলো মাইনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিরাপদ পথ নির্দেশ করে কিছু মানচিত্রও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের মাইন অপসারণ স্থল মাইনের তুলনায় অনেক বেশি জটিল। এমনকি উন্নত সামরিক সক্ষমতা থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি সময়সাপেক্ষ ও কঠিন কাজ। যুক্তরাষ্ট্রও মাইন অপসারণে বিশেষায়িত জাহাজের ওপর নির্ভরশীল।

advertisement

এদিকে, যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে প্রণালির দ্রুত ও নিরাপদ উন্মুক্তকরণের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা’র কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ধীরে ধীরে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। মার্কিন পক্ষ মনে করছে, এই সীমাবদ্ধতা মূলত মাইন শনাক্ত ও অপসারণে দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

পরিস্থিতির জটিলতা কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রভাব ফেলছে। পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।

মার্কিন বাহিনী ইরানের নৌ সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করলেও দেশটির বিপুলসংখ্যক ছোট নৌযান এখনো কার্যকর রয়েছে, যা মাইন স্থাপন বা জাহাজে বাধা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে পুরো পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

  • সর্বশেষ