মনিরুল ইসলাম : কাজল কালো চোখ, তীক্ষ্ণ সুন্দরী প্রতিযোগিতার হাত ধরে যাঁর শোবিজে প্রবেশ, তিনি অচিরেই নিজেকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন মিউজিক ভিডিও থেকে ফটোশুট, টিভিসি থেকে রুপালি পর্দা — সর্বত্র। তবু যেন কোথাও একটা ছন্দপতন ঘটে গিয়েছিল। হঠাৎই আলোর বৃত্ত থেকে সরে গিয়েছিলেন লাস্যময়ী প্রিয়মনি।
ঢালিউড যখন দেশের সীমানা পেরিয়ে বাইরে হাত বাড়াচ্ছে, তখন তিনি ছিলেন আপন ভুবনে নিমগ্ন। কিন্তু নীরবতার সেই অধ্যায় এবার শেষ। আসন্ন ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে তাঁর সিনেমা 'ভালোবাসার প্রজাপতি'। আলোয় ফিরছেন প্রিয়মনি।
দীর্ঘ বিরতির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, "আমার ক্যারিয়ার শুরু হতে না হতেই করোনার প্রকোপ বাড়ল। কাজ আর করা হয়ে উঠল না। মাঝে পড়াশোনায় সময় দিতে হয়েছে। অনেক সিনেমার প্রস্তাব এসেছিল — কিন্তু এই সেই ভেবে কাজের সংখ্যা বাড়াইনি। এখন সব ঝেড়ে প্রস্তুত হয়েছি। দর্শক এখন থেকে নিয়মিতই আমাকে পাবেন।
অনন্য মামুনের 'কসাই' ছিল প্রিয়মনির প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। তবে ক্যামেরার সামনে তাঁর প্রথম পদক্ষেপ রাজু আলীমের 'ভালোবাসার প্রজাপতি'-তে। সেই প্রথম কাজের স্মৃতি এখনো তাঁর মনে উজ্জ্বল।
"প্রথমের প্রতি মানুষের ভালোবাসা অন্যরকম হয়" — বললেন প্রিয়মনি। "শুরুতে নার্ভাস ছিলাম, তবে সামলে নিয়েছি। শুটিং শেষ করেছি ভালোভাবে। কাজটি অবশেষে দর্শক দেখবে — এই ভাবনাতেই ভালো লাগছে।
নতুনভাবে নিজেকে গড়ে নিচ্ছেন প্রিয়। সিনেমার পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যমেও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। অনেকে যোগাযোগ করেছেন, চলছে প্রাথমিক আলাপ — তবে কাউকে এখনো কথা দেননি। সময়মতো সব জানবেন দর্শক।
এরই মধ্যে নিজেকে পোড়াচ্ছেন শরীর ও মনের সাধনায়। নিয়মিত জিম, মার্শাল আর্টের তালিম, নাচের ক্লাস, অভিনয়ের কর্মশালা — কোনো জায়গায় যেন ফাঁক না থাকে, সেই সংকল্পেই এগিয়ে চলেছেন তিনি।
শোবিজ মানেই গুঞ্জন — এ কথা প্রিয়মনি জানেন। তবু বিচলিত নন মোটেও। তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট দৃঢ়তা — "আমি যদি সৎ থাকতে পারি, তাহলে কোনো গুঞ্জনই ধোপে টিকবে না। প্রেম-ভালোবাসা ঐশ্বরিক বিষয়। আমি বিষয়টিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আর শোবিজের তারকাদের নিয়ে সবার আগ্রহ থাকে — এটুকু না থাকলে কী হয়?"
প্রজাপতির মতোই — নীরব গুটিপোকা থেকে ডানা মেলে ফেরার সময় এসেছে। রুপালি পর্দা অপেক্ষায়, দর্শক অপেক্ষায়। প্রিয়মনিও প্রস্তুত।