ফিরোজ আহম্মেদ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে পাগলা কুকুরের কামড়ে বৃদ্ধ, যুবক, মহিলা ও শিশু সহ ২৩ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সকাল পর্যন্ত দুইদিনে শহরের পৌর এলাকার নিশ্চিন্তপুর ও মধুগঞ্জ বাজারের ঢাকালে পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ওই কুকুরের কামড়ের শিকার হন। আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিষেধক রাবিশ ভ্যাকসিন না থাকায দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানাগেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই শহরের মধুগঞ্জ বাজারের ঢাকালে পাড়া ও নিশ্চিন্দপুর হাইস্কুল পাড়া এলাকায় দুইটি ক্ষ্যাপা কুকুর বেপরোয়া হয়ে ওঠে। কুকুর দুটি সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত একের পর এলাকাবাসী ও পথচারীদের কামড়াতে থাকে।
পাগলা কুকুরের কামড়ে নিশ্চিনন্তপুর হাই স্কুল পাড়ার চা বিক্রেতা পলাশ, পথচারী গোবিন্দ, অসিতের স্ত্রী, শিশু অর্ক ও মধুগঞ্জ বাজারের হাসানুজ্জামানের শিশু কন্যা সিনথিসহ ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা চিকিৎসার জন্য কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হলেও প্রতিষেধক ভ্যাকসিন না পেয়ে ফিরে আসেন। এদিকে কুকুরের কামড়ের উপদ্রব ঠেকাতে স্থানীয়রা সঙ্গবদ্ধ হয়ে শুক্রবার রাতে একটি কুকুরকে নিধন করলেও অন্যটিকে ধরতে পারেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার অরুণ কুমার জানান, গতকাল কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে শহরের ঢাকালে পাড়া থেকে ১১ জন ও নিশ্চিন্তপুর হাই স্কুল পাড়ার এলাকার আরো ১১ জন হাসপাতালে এসেছিল। আহতদের মধ্যে ক্যাট এর কামড়ের রোগীও ছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন প্রতিষেধক রাবিস ভ্যাকসিন নেই। তাই, আহতদেরকে অন্যস্থান বা বাজার থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভ্যাকসিন সংকট থাকলেও ভুক্তভোগীরা আমার কাছে আসলে বাজার থেকে তাদেরকে ভ্যাকসিন কিনে দিয়েছি। তবে, হাসপাতালের ভ্যাকসিন সংকট খুব দ্রুতই নিরসন করা হবে বলে জানান তিনি।