এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার সোনাখালী গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ রক্তাক্ত হামলার ঘটনা। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের তিনজন—একজন বৃদ্ধা মা, তার ছেলে এবং গৃহবধূ—গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরের দিকে সোনাখালী গ্রামে এ নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল দুই পক্ষের মধ্যে। সেই বিরোধের জের ধরেই এদিন পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা রূপ নেয় সহিংস সংঘর্ষে।
অভিযোগ রয়েছে, সোনাখালী গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে নাছির, কামরুল, মনির, টুকু, মজিবরসহ ৫ থেকে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে একই পরিবারের তিনজনকে।
আহতরা হলেন—জাহানারা বেগম (৭০), স্বামী মৃতু আব্দুর রব শেখ ও তার ছেলে হান্নান শেখ (৪৮) পিতা মৃত্যু আব্দুর রব শেখ এবং হান্নানের স্ত্রী গৃহবধূ কলি (২৬)। তারা সবাই সোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। যেকোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন অনেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “জমি নিয়ে বিরোধ গ্রামবাংলায় নতুন কিছু নয়, তবে এভাবে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
এদিকে আহতদের স্বজনরা জানান, পূর্ব থেকেই প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।