জামাল হোসেন খোকন, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): সারা দেশের মতো চুয়াডাঙ্গার জীবননগরেও জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ মার্চ ফুয়েল কার্ড সংগ্রহের জন্য মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন পেপার, চালকের স্মার্টকার্ডের ফটোকপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি জমা দিতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির প্রথম দিনেই চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার চার উপজেলার শত শত মোটরসাইকেল চালক ভিড় জমালে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
এ অবস্থায় চালকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়—এখন থেকে নিজ নিজ উপজেলায় ফুয়েল কার্ডের আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় জীবননগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে সোমবার সকাল ১০টা থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ’ মোটরসাইকেল চালক আবেদন জমা দিতে উপস্থিত হয়েছেন। সুশৃঙ্খলভাবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৌরসভাসহ প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
আবেদন জমা দিতে আসা শিক্ষক সুরুজ মন্ডল বলেন, “গতকাল চুয়াডাঙ্গায় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন জমা দিতে পারিনি। খুব হতাশ ছিলাম। পরে জানতে পারি উপজেলাতেই জমা দেওয়া যাবে। আজ এসে দেখি সুন্দর ব্যবস্থা—খুবই ভালো লাগছে।”
চাকরিজীবী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। জীবননগর থেকে চুয়াডাঙ্গা প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। তাই নিজ উপজেলায় আবেদন জমা নেওয়ার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই দিনে (৩০ ও ৩১ মার্চ) সব আবেদন গ্রহণ সম্ভব নয়। তাই আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কার্যক্রম আরও কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।
স্থানীয়দের আশা, উপজেলা পর্যায়ে এই কার্যক্রম চালু হওয়ায় ভোগান্তি কমবে এবং মোটরসাইকেল চালকরা সহজেই ফুয়েল কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক পহেলা এপ্রিল থেকে মোটরসাইকেলের তেল সংগ্রহের জন্য ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক। কার্ড ব্যতীত পাম্প মালিকদের মোটরসাইকেলের তেল দেওয়ার নিষেধ রয়েছে।