বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ধরতে সারাদেশে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। মজুত প্রবণতা থাকায় সংকট কৃত্তিমভাবে তৈরি হয়েছে। সরকার সচেতনতা তৈরি করছে। দেশব্যাপী ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করে ১৫৩টি মামলাসহ ৭৫ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তেল মজুত করায় ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন ও ২৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ মোট ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মুলতবি অধিবেশনে একজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন জ্বালানিমন্ত্রী।
জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে-ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ও অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা। মোট ভর্তুকি হবে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।
তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব হলো সংকটের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদন, পরিবহন খরচ, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, একটা বাস্তবতা জাতির সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। দেশে ডিজেলের বর্তমান বিক্রয় মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটারে ১৯০ টাকা। এভাবে দেশে অকটেনের বর্তমান বিক্রয় মূল্য ১২০ টাকা, অথচ প্রকৃত ব্যয় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা। বিশ্বে জ্বালানি সংকটে বহু দেশ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা পর্যন্ত সীমিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি জীবনযাত্রা সচল রাখতে।
সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, আজকের এই সময়ে আমাদের সবার উচিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনা। মজুতের প্রবৃত্তিও রোধ করতে হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করা, অবৈধ সংযোগ, অবৈধ মজুত বন্ধে সোচ্চার হওয়া, জাতীয় স্বার্থকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া জরুরি।
‘আমরা সবাই মিলে যদি সাশ্রয়ী ও সচেতন হই, তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা অনেক সহজ হবে। অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট সময়ের পর বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযত হওয়ার এখন সময় এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, আমরা সম্প্রতি লক্ষ্য করছি সীমান্তের দুই জেলায় কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু কুচক্রী মহল জ্বালানি তেল পাচারে জড়িত রয়েছে। সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এটি কঠোর হস্তে দমন করতে বদ্ধপরিকর। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ মজুতদারির বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।