শিরোনাম
◈ কাল পাস হচ্ছে বাজেট, আসছে যেসব পরিবর্তন ◈ ৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা পরিস্কার করা উচিত: মির্জা ফখরুল  ◈ চাহিদা ও দাম দুটোই কমেছে, ইউরোপে চাপে বাংলাদেশের পোশাক খাত ◈ জামায়াতের বয়স ৮৪ বছর, ১০০ বছর নয়: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ অর্থ বিল সংশোধন করে করমুক্ত আয়সীমা ৪-৫ লাখ টাকা করা হচ্ছে ◈ কারিগরি ত্রুটিতে দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বাড়তে পারে লোডশেডিং ◈ প্রিপেইড মিটার রিচার্জে ভোগান্তি, নেই সমাধান ◈ জাপানের বিরুদ্ধে প্রথম দলে দেখা যাবে নেইমারকে? লাখ টাকার প্রশ্ন ব্রাজিল শিবিরে ◈ বিরোধী দল সেই সংস্কারের কথা বলে, যে সংস্কার তাদের ক্ষমতার ভাগ দেবে : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ◈ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় সমঝোতা কি ভেস্তে যাবে

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ০৮:১৭ রাত
আপডেট : ২৩ জুন, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি ৭৪ শিশু, চিকিৎসা চলছে মেঝেতে

মো. রমজান আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গত কয়েকদিনে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভর্তির হার। সোমবার দুপুর ২টা পর্যন্ত নতুন করে আরও ১৬ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সুস্থ হওয়ায়  ১১ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৪ জন শিশু, যাদের মধ্যে ৪৫ জন ছেলে এবং ২৯ জন মেয়ে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৩০টি, অথচ সেখানে ভর্তি রয়েছে ধারণক্ষমতার চেয়ে চার গুণ বেশি রোগী। শয্যা না পেয়ে আক্রান্ত শিশুদের হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে। সেখানেও গাদাগাদি করে রোগীদের রাখা হয়েছে। এমনকি আশঙ্কাজনক রোগীদের জন্য হাসপাতালে কোনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। 

অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, হাম ছোঁয়াচে রোগ হওয়া সত্ত্বেও গাদাগাদি করে থাকায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহফুজ রায়হান জানান, স্মরণকালের মধ্যে এবার হামের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘ ২০ বছর পর এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কোনো আইসিইউ আসন খালি নেই, সেখানেও পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। গত এক মাস ধরে প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও গত দুই সপ্তাহে আক্রান্তের হার কয়েকগুণ বেড়েছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, হামের পরীক্ষা কেবল ঢাকার মহাখালীতে হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নমুনা পাঠানো হলেও রিপোর্ট আসতে প্রায় তিন মাস সময় লাগে। তবে রিপোর্ট আসার অপেক্ষায় না থেকে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মোট রোগীর সংখ্যা সাড়ে ৬শ ছাড়িয়ে গেছে। হামের পাশাপাশি ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর চাপও বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাম আক্রান্তদের জন্য ৮ জন নার্স এবং শিশু ওয়ার্ডে ৩ জন চিকিৎসক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকরা নির্ধারিত সময়ের চেয়েও অতিরিক্ত সময় সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান হাসপাতালের এই কর্মকর্তা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়