শিরোনাম
◈ স্থানীয় সরকার নির্বাচন: বিদ্রোহী ঠেকাতে কঠোর বিএনপি, প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা-সততায় নজর ◈ ইরান যুদ্ধে ছয় মাসে বদলে গেছে যে ৬ সমীকরণ ◈ পশ্চিমবঙ্গে শিগগিরই ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল কংগ্রেস: মমতা ◈ নেপালের আকস্মিক বন্যা: বাংলাদেশে কতটা ঝুঁকি, জানালেন বিশেষজ্ঞরা ◈ শনিবার সকাল ৮টা থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না গাজীপুরের যেসব এলাকায় ◈ হরমুজ প্রণালীতে আটকা পড়েছে ৪০০ জাহাজ-ছয় হাজার নাবিক ◈ মক্কা চুক্তিসহ বাংলাদেশের সব ঘটনার ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে ভারত ◈ আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরতে হলে যে শর্ত মানতে হবে, জানালেন সোহেল তাজ ◈ ইমরান খা‌নের দুই ছে‌লের বিস্ফোরক মন্তব‌্য, বাবাকে স্পষ্ট হত্যা করার চেষ্টা চল‌ছে ◈ অবশেষে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২২ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মিষ্টির খালি প্যাকেটের ওজন ২৩২ গ্রাম

মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া দই মিষ্টির দোকান গুলো। নিজেদের ইচ্ছে মতো বাড়াচ্ছে দই মিষ্টির দাম। এতে বিপাকে ও ভোগান্তিতে পড়ছে ক্রেতারা।

এছাড়াও দই ও মিষ্টির ওজনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। দোকান ঘুরে প্রতি কেজি মিষ্টির খালি প্যাকেটের ওজন এক কেজির প্যাকেটের ওজন ১৬৮ থেকে ২০০ গ্রাম, দুই কেজির প্যাকেটের ওজন ২৩২ থেকে ২৪২ গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। এদিকে দইয়ের পাত্র সহ ওজন দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। কারখানাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে দই ও মিষ্টি। এসব বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার বিভিন্ন স্থানের মিষ্টির দোকান ঘুরে দেখা যায়, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে দই ও মিষ্টির দোকান গুলো। কিছু মিষ্টির দোকানে মূল্য তালিকায় মূল্য লেখা থাকলেও তা না মেনে মার্কার কলম দিয়ে পূর্বের দাম কেটে নতুন করে নিজেদের ইচ্ছেমতো মূল্য দিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে দই ও মিষ্টি। ঈদকে সামনে রেখে দুধ বা চিনির দাম বাড়তির অজুহাতে নিজেদের ইচ্ছে মতো দই ও মিষ্টির দাম বাড়িয়েছে দোকান মালিকরা। দাম বাড়িয়ে প্রতি কেজি মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে প্রকার ভেদে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আর দই প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে। আর এসব মিষ্টি বিক্রি করতে ক্রেতাকে ধরিয়ে দেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২৪২ গ্রাম ওজনের প্যাকেট। এদিকে কাগজে কলমে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী ১ কেজি মিষ্টির প্যাকেটের ওজন থাকার কথা ৪০ থেকে ৫০ গ্রাম ও ২ কেজি প্যাকেটে ৬০ গ্রাম। মিষ্টি কিনতে গেলে মিষ্টির প্যাকেটসহ ওজন করা হয়। এতে ক্রেতারা ১ কেজি মিষ্টি কিনলে প্রকৃতপক্ষে পান ৮০০ থেকে ৮৫০ গ্রাম। দুই কেজির প্যাকেটে মিষ্টি নিলে ক্রেতা পায় ১৭৫০ গ্রাম থেকে ১৮০০ গ্রাম। সেই হিসাবে ক্রেতার কাছ থেকে একটি প্যাকেটের দাম হিসেবে রেখে দেওয়া হচ্ছে প্রকার ভেদে ৭০ থেকে ১২০ টাকা।

দই এর পাত্রের ওজন বাদ দিয়ে মেপে দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার উল্টো। দই এর পাত্র সহ ওজন দিয়ে ঠকানো হচ্ছে ক্রেতাদের। দইয়ের গায়ে তৈরি ও মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ একটিতেও পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এমন প্রতারণা করলেও অদৃশ্য কারনে কোন তদারকি বা ব্যবস্থা নেয়নি উপজেলা প্রশাসন। এসব মিষ্টির কার্টনের ওপরের কভার হালকা থাকলেও নিচেরটা ভারি করে নিজেদের ইচ্ছে মতো কারখানা থেকে বানিয়ে নেয় দোকানদাররা। মিষ্টির কয়েকটি কারখানা ঘুরে দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খালি গায়ে ময়লা শরীরে মিষ্টি, দই তৈরি করছেন কারিগররা। ময়লা ও মাছিতে ভরা কারখানা গুলো। শরীরের ঘাম পানি পরছে মিষ্টির কড়াইয়ে। খালি হাতে নৌংরা শরীর তৈরি জরা হচ্ছে মিষ্টি ও দই। এসব দই মিষ্টির ওজন নিয়ে প্রায়ই ক্রেতাদের সঙ্গে দোকান মালিকদের হচ্ছে বাগবিতন্ডা।  

সুমন আহাম্মেদ, জাহিদুল ইসলাম সোহাগ, কাওসার ইসলামসহ একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, মিষ্টির দোকান গুলোতে নিজেদের ইচ্ছে মতো দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। দই মিষ্টি কিনতে গেলে বলে দুধের দাম বেশি দুধ পাওয়া যায় না। এসব অজুহাতে দাম বাড়ায়। 

মনিরুজ্জামান মুন্না বলেন, আমি কয়েকদিন আগে মিষ্টি কিনতে রুদ্র বয়ড়া একুশের মোড়ের ষোষ মিষ্টির দোকানে যাই। পরে মিষ্টি মেপে দিলে আমার কাছে কম মনে হয়। এসময় আমি দোকানে থাকা মিষ্টির অন্য খালী প্যাকেট ওজন দিলে ২৩২ ও অন্য একটি ২৪২ গ্রাম ওজন দেখতে পাই। পরে বিষয়টি দোকানদারকে বললে সে জানায় এসব বাক্স আমরা কিনে আনি। নিজেরা বানাই না।  এগুলো তো আমরা বানাইনি। আবার দোকানে মূল্য তালিকাও নেই। ইচ্ছামতো দই মিষ্টির দাম নিচ্ছেন। দইয়ের ক্ষেত্রে পাতিলের ওজনসহ দাম নিচ্ছে।

এ বিষয়ে জামালপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, আমরা ঈদের পরে বিষয়টি দেখতে পারবো। এখন সময় নেই। তাছাড়া এর আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিলো। অভিযান শেষ হলে পুনরায় এই কাজই করে। 

  • সর্বশেষ