কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামে মা-ছেলেসহ তিনজনকে গলা কেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সৌদি প্রবাসী স্বামী মো. জহিরুল ইসলাম দেশে ফিরে তিনদিন পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) হোমনা থানায় মামলাটি করেন।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনো সময় জয়নুদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহতরা হলেন- প্রবাসী মো. জহিরুল ইসলামের স্ত্রী মোসাম্মৎ সুকিয়া বেগম (৪০), তার চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং পাঁচ বছরের ভাতিজা মোহাম্মদ জোবায়ের।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির সদস্যরা ঘরের দরজার ছিটকানি বাইরে থেকে আটকানো দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে দরজা খুলে তিনটি আলাদা কক্ষে তিনজনের রক্তাক্ত গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
বুধবার তাদের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার পর সন্ধ্যায় জানাজা শেষে মনিপুর শাহী ঈদগাহ সংলগ্ন স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। একই পরিবারের তিনজনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিহতের স্বামী সৌদি প্রবাসী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী ও ছোট শিশু সন্তান ও ভাতিজাকে যারা এভাবে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দীনেশ চন্দ্র দাশ গুপ্ত পুলিশ জানিয়েছে, এখনও কোনো ‘ক্লু’ পাওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত আছে।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরি জানিয়েছে, ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে কয়েকটি টিম কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি বলা সম্ভব নয়।