শিরোনাম
◈ কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ও আহত বেশ কয়েকজন ◈ নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট দলের কোচ হলেন পা‌কিস্তা‌নের মিসবাহ উল হক ◈ একাদশে ভর্তির শেষ সুযোগ, আবেদন করা যাবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ◈ চাহিদার চেয়ে বেশি আমদানি, তবু কমছে না ফলের দাম ◈ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের সুযোগ, আসছে অধ্যাদেশ ◈ ‘ফ্যামিলি কার্ডের কারণে তালাক বন্ধ হয়েছে’: চিফ হুইপ ◈ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ, বাংলাদেশিদের নিয়ে কঠোর হচ্ছে ইইউ ◈ ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গ্রেপ্তার ২৭২ জন ◈ এলন মাস্কের টেসলাকে চ্যালেঞ্জ, রোডস্টারের ওপর দিয়ে উড়ল আলেফের উড়ন্ত গাড়ি! ◈ অনুমতি ছাড়াই অন্যের ওয়ালেট থেকে পরীক্ষামূলক ইথেরিয়াম খরচ করল ওপেনএআইয়ের গবেষণা মডেল

প্রকাশিত : ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:২৩ সকাল
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সেন্টমার্টিনের ‘রক্ষাকবচ’ কেয়া গাছ কাটার অভিযোগ, স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ

সেন্টমার্টিন দ্বীপ-এর সমুদ্রসৈকত এলাকায় কেয়া গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় কেয়া গাছ নিধনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কে বা কারা গাছ কেটে ফেলেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

তিনি আরও বলেন, গতকাল রোববার বিষয়টি জানার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচকর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement

সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা তৈয়ব উল্লাহ বলেন, গত শনিবার দ্বীপের দক্ষিণপাড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় সূর্যাস্ত দেখতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মন ভালো হয়নি। সেখানে ঘন কেয়াবন উজাড় হয়েছে। সারি সারি কেয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের দ্রুত এগিয়ে এসে বন রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এই গাছগুলো দ্বীপের রক্ষাকবচ ও সৌন্দর্যের আধার—এগুলো বাঁচাতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাফর আলম বলেন, আমরা এই দ্বীপকে সুন্দর ও সবুজ রাখতে চাই। কেয়া গাছ কাটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধু পরিবেশকেই নয়, পর্যটন খাতকেও প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেয়া গাছ কেটে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। কেয়া গাছ শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, এটি উপকূলীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবেষ্টনী। ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় এসব গাছ বালুচর ও বসতভিটা রক্ষা করে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি আরও বলেন, সেন্টমার্টিন একটি পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা। সেখানে গাছ নিধন দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণপাড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় কেয়া গাছ কাটার ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে কারা বা কোন চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করা হবে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না।

  • সর্বশেষ