শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন না হওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিলেটের সমাবেশ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল।
ইব্রাহিম খলিল বলেন, শাকসু নির্বাচন না হলে তারেক রহমানের সিলেটের সমাবেশ বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সিলেটের সড়ক ও রেলপথসহ সব যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, যারা শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার হরণ করে, তাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশ করার অধিকার নেই।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বরে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের ডাকা এক মানববন্ধনে ইব্রাহিম খলিল এ কথা বলেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. মোজাম্মেল মামুন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইব্রাহিম খলিলের করা মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
এর আগে ইব্রাহিম খলিলের এ মন্তব্যের জবাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘ভদ্রতা, সহনশীলতা ও ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনৈতিক চর্চার জন্য ও সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠন নিয়ে কাজ করার মনমানসিকতা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আছে বিধায় বিগত দিনে অনেক ভিন্ন মতামতের রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের অনেক বির্তকিত কর্মকাণ্ড সহ্য করেছি, ধৈর্য ধরছি। কিন্তু যদি সীমা ছাড়িয়ে যান, এর পরিণাম হবে ভয়ানক। ঢাকা শহরে কোথাও থাকতে পারবেন না, না ক্যাম্পাস, না বাসাবাড়িতে।’
ফেসবুক পোস্টে মেহেদী হাসান হিমেল আরও বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কাছে আবেগের জায়গা। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় সব শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, সুস্থ ধারার রাজনৈতিক চর্চার জন্য অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছি। ছাত্রলীগের লুঙ্গির নিচে থাকা কোনো সংগঠন যদি উল্টোপাল্টা বক্তব্য পরিহার না করেন, তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘দায়িত্বশীল থেকে দায়িত্বহীন কথা বলে জবি শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম অন্যান্য পাগলের মতো নতুন পাগলামির মার্কেট পাওয়ার ধান্দায় নেমেছে। আমরা কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের মতো ভিসি মহোদয়কে চিকিৎসার জন্যে অনুরোধ জানাব না, নিজেরাই নিয়ে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসব। সুতরাং বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহার করে কথা বলুন।’
সূত্র: প্রথম আলো