কাজী রাশেদ, চান্দিনা (কুমিল্লা): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। দলটির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেও এর বিপরীতে বিদ্রোহ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আতিকুল আলম শাওন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতীকও বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। এতে বিএনপি- বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টির কারণে নির্বাচনী মাঠে নানামুখী সমস্যাও তৈরী হচ্ছে।
এ নিয়ে বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনকে দিয়ে বিএনপি’র কমিটি কুক্ষিগত করেছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছে।
আচরণবিধি লঙ্ঘণ করে যা ইচ্ছে তা-ই করে বেড়াচ্ছে। সহযোগিতার বদলে স্থানীয় বিএনপি’র নেতারা বিরক্ত করছে।
এর আগে সকালে কুমিল্লা জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান এর কার্যালয় থেকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পান তিনি। একই দিন বিএনপি’র বিদ্রাহী প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আতিকুল আলম শাওন কলস প্রতীক বরাদ্দ পান। ফলে স্থানীয় বিএনপি এখনো দ্বিধা বিভক্ত।
সংবাদ সম্মেলনে রেদোয়ান আহমেদ বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় চান্দিনা উপজেলা বিএনপি’র সকল নেতা-কর্মীদের অতীতের সকল মতানৈক্য ভুলে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এক সাথে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এছাড়াও যারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর আদর্শের রাজনীতিতে বিশ্বাসী তাদের অনেককে আমি ব্যক্তিগত ভাবে টেলিফোন করি। কিন্তু এ আসনের একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম তার লোকজনকে উস্কানী দিয়ে আমার ও আমার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক মানহানীকর বক্তব্য দিয়ে চলছে।
গত ১৯ জানুয়ারী প্রার্থী আতিকুল আলম এর চাচাতো ভাই সাইফুল্লাহ বাপ্পি সহ বিএনপি’র ৭ জন পদধারী নেতা আমার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে একটি মিথ্যা রিট দায়ের করেন। যা পরদিনই আদালত খারিজ করে দেন। আমি যখন তাদেরকে ফুল ছিটাই তারা আমার ও আমার নেতা-কর্মীদের উপর পাথর নিক্ষেপ করে চলছে। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম শামসুল হক মাস্টার, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
মোফাজ্জল হোসেন বশির সহ তার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।