শিরোনাম
◈ সিলেট পৌঁছেছেন তারেক রহমান, এম এ জি উসমানী'র কবর জিয়ারত ◈ সারাদেশে যেসকল নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করল বিএনপি ◈ নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পেশ: ২০টি গ্রেডে কার বেতন কত বাড়ছে? ◈ সেনাপ্রধানের নির্বাচন নিয়ে নতুন বার্তা ◈ ভারতে বাংলাদেশ না খেললে বিকল্প দল নেবে আইসিসি, বোর্ডসভায় সিদ্ধান্ত ◈ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের পর এবার নগদ ১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার ◈ ১ লাখ সেনাসদস্য, উন্নত ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ নিশ্চিতে উদ্যোগ, ভোট গণনায় বিলম্বের আশঙ্কা ◈ ১৮৩ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরল মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির সর্বশেষ শিক্ষার্থী আবিদ ◈ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা: এবারের  নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে ◈ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে নিষিদ্ধের আবেদন খারিজ, ‘এটা কী ধরনের আবেদন’ প্রশ্ন দিল্লি হাইকোর্টের

প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:৪৯ রাত
আপডেট : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতার ৮টি লক্ষণ

পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত খাবার সত্ত্বেও যদি সারাক্ষণ শরীর অবসন্ন লাগে, অল্পতেই মাথা ঘোরে কিংবা সামান্য পরিশ্রমে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। বসা অবস্থা থেকে দাঁড়ালেই চোখে অন্ধকার নেমে আসা বা কয়েক ধাপ সিঁড়ি উঠতেই হাঁপিয়ে পড়াও হতে পারে শরীরের ভেতরে চলতে থাকা কোনো সমস্যার ইঙ্গিত। 

এ ধরনের উপসর্গের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চিহ্নিত করা হয় আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া, অর্থাৎ রক্তস্বল্পতাকে। আয়রন হল একটি অত্যাবশ্যক মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, যা মানবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। লোহিত রক্তকণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে আয়রনের প্রয়োজন হয়, আর এই হিমোগ্লোবিনই শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। 

শুধু তাই নয়, আয়রন শক্তি উৎপাদন, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখা এবং কোষের বৃদ্ধি ও ডিএনএ সংশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ার সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিলে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হয়, যার ফল হিসেবে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং মানসিক ও শারীরিক কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি অব্যাহত থাকলেই তৈরি হয় আয়রন-ঘাটতিজনিত অ্যানিমিয়া। 

এই অ্যানিমিয়ার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ রয়েছে, যেগুলো সময়মতো শনাক্ত করা গেলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব। নিচে সেসব লক্ষণের কথা উল্লেখ করা হলো:

১. ক্লান্তি ও দুর্বলতা 

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি অনুভব করা অ্যানিমিয়ার অন্যতম সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ। রক্তে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না থাকলে তা পেশি ও মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে পারে না। এর ফলে হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙার মতো দৈনন্দিন কাজেও অতিরিক্ত অবসাদ দেখা দেয়। অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। 

২. ফ্যাকাশে বা হলদেটে ত্বক

ত্বকের স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফ্যাকাশে দেখাতে পারে, বিশেষ করে মুখ, হাতের তালু বা চোখের ভেতরের পাতায়। হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ার কারণে অক্সিজেন পরিবহন হ্রাস পাওয়াই এর প্রধান কারণ। হালকা ত্বকের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন বেশি চোখে পড়ে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বকে হালকা হলদেটে আভাও দেখা যেতে পারে, যা জন্ডিসের মতো সংশ্লিষ্ট সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। 

৩. শ্বাসকষ্ট

অল্প পরিশ্রমেই শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া অ্যানিমিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে দ্রুত শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করলে এই সমস্যা দেখা দেয়। সাধারণত ব্যায়াম করার সময় বা সিঁড়ি ভাঙার সময় এটি বেশি অনুভূত হয়, যা অক্সিজেন সরবরাহে হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের অতিরিক্ত চাপের ইঙ্গিত দেয়। দীর্ঘদিন এ উপসর্গ উপেক্ষা করলে সময়ের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 

৪. দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন

অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হলে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত বা অনিয়মিত হতে পারে, বিশেষ করে শারীরিক পরিশ্রমের সময়। রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত কাজ করতে হওয়ায় বুকে ধড়ফড়ানি, হঠাৎ জোরে স্পন্দন বা স্পন্দন থেমে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। 

৫. মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা 

মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন না পৌঁছানোর কারণে মাথা হালকা লাগা বা ঘনঘন মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে। হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে এই সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি মনোযোগের ঘাটতি, মানসিক ঝাপসাভাব (ব্রেন ফগ) বা ভার্টিগোর মতো অনুভূতিও হতে পারে। 

৬. হাত ও পা ঠান্ডা থাকা 

রক্ত সঞ্চালন দুর্বল হয়ে পড়লে আশপাশের পরিবেশ উষ্ণ হলেও হাত ও পা সব সময় ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। অক্সিজেন-স্বল্প রক্ত শরীরের দূরবর্তী অংশে পৌঁছাতে বাঁধার মুখে পড়ার কারণেই এমনটি ঘটে। 

৭. অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা

আয়রনের ঘাটতির কারণে অনেক সময় ‘পাইকা’ নামে একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে বরফ, মাটি, কাদামাটি বা চক-এর মতো খাদ্যবহির্ভূত জিনিস খাওয়ার অস্বাভাবিক ইচ্ছা তৈরি হয়। এ ধরনের অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা সাধারণত আয়রনের অভাবের সঙ্গেই সম্পর্কিত। এছাড়া মুখে ঘা, ঠোঁট ফেটে যাওয়া বা জিহ্বায় ব্যথা থাকাও অ্যানিমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। 

৮. ভঙ্গুর নখ ও চুল পড়া 

অ্যানিমিয়ায় নখ সহজে ভেঙে যায়, চামচের মতো বাঁকানো আকার নিতে পারে বা নখে দাগ দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে চুল অতিরিক্ত পাতলা হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিকভাবে চুল পড়াও লক্ষ্য করা যায়। বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি যথাযথভাবে না পৌঁছানোর কারণেই এ ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তীব্র ক্লান্তি দেখা দেওয়ার আগেই অনেক সময় এসব দৃশ্যমান লক্ষণ প্রকাশ পায়। ক্লান্তির সঙ্গে এসব উপসর্গ একত্রে দেখা গেলে তা অ্যানিমিয়ার জোরালো ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সূত্র: যুগান্তর

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়