শিরোনাম
◈ ‘দলগুলোর সদিচ্ছা থাকলে সহিংসতামুক্ত স্থানীয় নির্বাচন সম্ভব’ ◈ হাসিনাকে ঘিরে আটকে আছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক স্বাভাবিকের উদ্যোগ, অচলাবস্থা কাটবে কীভাবে? ◈ স্বামীর করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী কারাগারে ◈ হ‌কি বিশ্বকাপ থে‌কে ভারতের বিদায়, ১২ বছর পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা  ◈ বি‌শ্বের বর্তমান ও সা‌বেক তারকা ফুটবলাররা ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর পদত্যাগ চান  ◈ জাপানি ভাষা শিখে বিনা খরচে বিদেশে চাকরির সুযোগ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের: মাহ্‌দী আমিন ◈ শেখ হাসিনার আত্মীয় বলায় যা বললেন আন্দালিভ রহমান পার্থ (ভিডিও) ◈ রাষ্ট্রপতির ঠাকুরগাঁও সফর স্থগিত, নতুন সূচি হতে পারে ১-২ দিনের মধ্যে ◈ চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, খসড়া চুক্তি প্রস্তুত ◈ একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ৭ জনকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

প্রকাশিত : ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ০৬:০৭ বিকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অষ্টগ্রামের ঐতিহাসিক কুতুবশাহী মসজিদ

ফারুকুজ্জামান, কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা সদরে অবস্থিত ইসলামী স্থাপত্যকলার অপূর্ব নিদর্শন কুতুবশাহী মসজিদ। পাঁচ গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি বাংলার সুলতানি ও মোগল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যে নির্মিত। মসজিদটির নির্মাণ কাল সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা যায়নি। ঐতিহাসিকদের কেউ এটাকে ১৬ শতাব্দীর নির্মিত বললেও অধিকাংশ ঐতিহাসিক মসজিদটি ১৭শতাব্দীতে নির্মিত বলে মনে করেন।

তারা বলছেন, ১৭ শতাব্দীর প্রথম দিকে এই মসজিদ নির্মিত বলেই এই মসজিদে সুলতানি ও মুঘল স্থাপত্যের নির্মানশৈলী ও কারুকার্য দেখা যায়। মসজিদটির নামকরন হয়েছে ওই আমলের বিখ্যাত দরবেশ কুতুব শাহ'র নামে। ধারণা করা হয়, অঞ্চলটিতে ওই সময়ে সুলতানি আমলের ধর্মপ্রাণ কোনো শাসকের বিচরণ ছিলো। তার পৃষ্ঠপোষকেই এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

আয়তাকার এই মসজিদটি উত্তর দক্ষিণে লম্বায় ৪৬ ফুট ১১ ইঞ্চি এবং পূর্ব-পশ্চিমে ২৭ ফুট ১১ ইঞ্চি। বাংলার চৌচালা ঘরের সাদৃশ্য হলেও এর কার্নিশগুলো নান্দনিক ও আরও বাঁকা। এর চার কোনে আটকোন বিশিষ্ট চারটি মিনার বা কর্নার টায়েট রয়েছে। যেগুলো নকশা করা। মসজিদের ভেতর ও বাইরের দিকে চোখ জুড়ানো ফুল-পাতার কারুকাজ। এর পূর্ব দেয়ালে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে দুইটি করে চারটি, সর্বমোট সাতটি খিলান আকৃতির প্রবেশপথ রয়েছে। পূর্ব দেয়ালের তিনটি প্রবেশপথের ঠিক বিপরীতে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মেহরাব রয়েছে।

উপরের দিকে বড় সুন্দর একটি গম্বুজ রয়েছে। চার পাশে আরও চারটি ছোট গম্বুজ। গম্বুজগুলোর চূড়ায় নান্দনিক অলংকরন। মসজিদের বাইরে দক্ষিণ পাশে কবর সদৃশ্য একটি স্থাপনা রয়েছে। অনেকের ধারণা এখানে কুতুব শাহের কবর রয়েছে। তবে এটা কুতুব শাহ বা সুলতানি কোনো শাসকের কবর কিনা জানাযায়নি।

শত শত বছর ধরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আসছেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে ১৯০৯ সালে সরকার মসজিদটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে। বর্তমানে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে পুরাকীর্তিটি পরিচালিত হয়ে আসছে। 

দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটি দেখতে প্রতিদিনই এখন শত শত পর্যটক ভিড় করে থাকেন।

  • সর্বশেষ