ডেস্ক রিপোর্ট : ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিশোধমূলক হামলার কারণে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী ১০৩টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিল ও কিছু স্থগিত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা দুইটায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির তথ্যমতে, ১০৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪২টি সরাসরি ও ৬১টি ট্রানজিট। এর আগের দিন বুধবার পর্যন্ত ১০০টি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং ভুক্তভোগী যাত্রী ছিলেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন। অর্থাৎ নতুন তথ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইট ও যাত্রী, দুটির সংখ্যাই বেড়েছে। -- পার্সটুডে
কোন এয়ারলাইনসের কতটি ফ্লাইট
সরাসরি ফ্লাইট (৪২টি):
হামলার প্রেক্ষাপট
ইয়েমেনে সৌদি আরবের নির্বিচার বিমান হামলার প্রতিশোধ নিতে রিয়াদসহ বিভিন্ন শহরে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। গত শনিবার থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে কয়েক দফা হামলা হয়েছে। সেদিন দুপুর সোয়া ৩টায় রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে হামলা হয়, তা সৌদিতে নিকট অতীতের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা।
এ পর্যন্ত হামলায় বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি। এই হামলার পর থেকেই ঢাকা থেকে সৌদিগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে থাকে।
বিমানবন্দরগুলোর বর্তমান অবস্থা
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের চারটি গন্তব্যে সরাসরি ও ট্রানজিটে ফ্লাইট চলাচল করে: রিয়াদ, দাম্মাম, মদীনা ও জেদ্দা।
রিয়াদ: কিং খালিদ বিমানবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
দাম্মাম: কিং ফাহাদ বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। প্রচুর ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে।
মদীনা: প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক, ফ্লাইট ঠিকমতো চলছে।
জেদ্দা: কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে চলাচল কিছুটা ব্যাহত হলেও এখন উড্ডয়ন ও অবতরণ চালু রয়েছে।
এয়ারলাইনসগুলোর সিদ্ধান্ত
যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথমে রিয়াদগামী, পরে দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত করে। সংস্থাটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এয়ারলাইনসগুলো টিকিট থাকা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদীনা ও জেদ্দায় নিয়ে যাচ্ছে। বিমানের একজন কর্মকর্তা জানান, যাঁদের ভিসার মেয়াদ শেষের দিকে, বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কোনো ফ্লাইটে যাতে আসন খালি না যায়, সেজন্য কখনো কখনো ওভারবুকিং হয়ে যাচ্ছে। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার পরও কিছু যাত্রীকে ফেরত আনার ঘটনা ঘটেছে, তবে তাঁরা পরের ফ্লাইটে আবার যাত্রা করছেন। এয়ারলাইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব রুটে আগে থেকেই বুকিং থাকায় টিকিট পরিবর্তন হচ্ছে কেবল আসন খালি থাকা সাপেক্ষে। এ কারণে যাত্রীদের কেউ কেউ বিকল্প গন্তব্যের ফ্লাইটে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।