মনিরুল ইসলাম : রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে রিকশা চলাচলে কঠোর ও কাঠামোবদ্ধ নতুন নিয়ম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে (ডিএসসিসি)। প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় রাজধানীকে একাধিক অঞ্চলে ভাগ করে নির্দিষ্ট এলাকার রিকশা শুধুমাত্র সেই এলাকার মধ্যেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে লাইসেন্স ও নিবন্ধন ছাড়া কোনো রিকশা ঢাকায় চলতে পারবে না।
অঞ্চলভিত্তিক চলাচল: এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় নিষেধ
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দস সালাম জানিয়েছেন, নগরীর যানজট কমাতে অঞ্চলভিত্তিক রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। তার ভাষায়, “ডেমরার একটি রিকশা কোনোভাবেই নিউ মার্কেটে যেতে পারবে না।” প্রয়োজনে কিছু সড়কে রিকশা চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ এবং কিছু সড়কে নির্দিষ্ট দিনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
লাইসেন্স ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক
রিকশা ব্যবস্থাপনাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনতে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লাইসেন্স ছাড়া কেউ ঢাকায় রিকশা চালাতে পারবেন না। একইভাবে, কেরানীগঞ্জ বা ডেমরা থেকে অন্য এলাকায় রিকশা নিয়ে যাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হবে। উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রিকশা চলাচলেও আলাদা সীমারেখা নির্ধারণ করা হবে।
অনিয়ন্ত্রিত রিকশা চলাচলে বাড়ছে যানজট
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য রিকশা রাজধানীর সড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচল করছে। অনেক চালক ট্রাফিক আইন মানছেন না, এমনকি উল্টো পথে চলাচলও করছেন। ফলে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
৫ আগস্টের পর ঢাকামুখী রিকশার চাপ বৃদ্ধি
ডিএসসিসি প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকায় আসার প্রবণতা বেড়েছে। বন্যা, নদীভাঙনসহ নানা কারণে জীবিকার সন্ধানে রাজধানীমুখী মানুষের চাপও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগরের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
আইন প্রণয়নের কাজ চলমান
অঞ্চলভিত্তিক এই রিকশা নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আইন চূড়ান্ত হলে তা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক। পুরো প্রক্রিয়াটি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ
রিকশার পাশাপাশি বাস চলাচলেও শৃঙ্খলা ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া বাস থামানো ও যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা হবে। পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সময় দেওয়া হয়েছে।
ই-রিকশার জন্য জাতীয় নীতিমালা
জানা গেছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ ও সংশোধিত আইন ২০২৬-এর আলোকে এই নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।
এই নীতিমালা কার্যকর হলে—
ঢাকার যানজট ও বিশৃঙ্খলার জন্য শুধু প্রশাসনকে দায়ী না করে নগরবাসীকেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
তিনি বলেন, “শৃঙ্খলাপূর্ণ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।