শিরোনাম
◈ বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর মার্কিন শুল্ক, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা ◈ পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময় ◈ সমঝোতার ভিত্তিতেই সংবিধানের সংস্কার করতে চায় সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসির স্থগিত পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ ◈ শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা: তথ্য উপদেষ্টা ◈ পাতা খেলার প্রস্তুতিতে ধরা বিষধর সাপই কেড়ে নিল সাপুড়িয়ার প্রাণ ◈ তিন মেগা প্রকল্পে কমেছে কমলাপুর আইসিডির জায়গা, পার্কিং সংকটে বাড়ছে ঢাকার যানজট! ◈ বাজার নিয়ন্ত্রণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে এলো ভারতীয় কাঁচা মরিচের প্রথম চালান ◈ যে কারণে ইসরায়েল ছাড়ছেন লাখো মানুষ, চাঞ্চল্যকর তথ্য জানাগেল গবেষণায় ◈ জুলাই আন্দোলন ঘিরে সহস্রাধিক মামলা আদালতে ঝুলছে, এখনো তদন্তই শেষ হয়নি

প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০২ দুপুর
আপডেট : ০৪ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:০৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

তিন মেগা প্রকল্পে কমেছে কমলাপুর আইসিডির জায়গা, পার্কিং সংকটে বাড়ছে ঢাকার যানজট!

রাজধানীর কমলাপুর আইসিডি

দেশের একমাত্র রেলওয়ে নেটওয়ার্কভুক্ত ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোটি (আইসিডি) রাজধানীর কমলাপুরে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) পরিচালিত এ আইসিডিতে বার্ষিক এক লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়।

বিপুলসংখ্যক কনটেইনার পরিবহনে কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহন আসা-যাওয়া করে। কিন্তু ঢাকার তিনটি মেগা প্রকল্পের প্রয়োজনে ভূমি অধিগ্রহণ হওয়ায় আইসিডির সার্ভিস এরিয়া সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে কমেছে পার্কিংয়ের জায়গা। এ কারণে আইসিডিমুখী যানবাহনগুলো কমলাপুর স্টেশনসংলগ্ন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার যানজট বাড়ার বড় কারণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: বণিক বার্তা প্রতিবেদন

সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, গত এক দশকে সরকারের একাধিক মেগা প্রকল্পের জন্য রেলের জমি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও মেট্রোরেল—তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে আইসিডির জন্য ব্যবহৃত প্রায় চার একর ভূমি কমে গেছে। এ কারণে কনটেইনার পরিবহনে নিয়োজিত যানবাহনগুলো সড়কের ওপর যেখানে সেখানে পার্কিং করা হয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে প্রায়ই মামলা, জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যানবাহনগুলোকে। এতে আইসিডিগামী যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধিসহ যানবাহন মালিকরা পণ্য পরিবহনে অনীহা প্রকাশ করছেন। এ অবস্থায় রেলওয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীসহ চবক। অন্যদিকে আইসিডি পরিচালনার দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দরের হওয়ায় এ বিষয়ে রেলওয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইসিডিতে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি ও ট্রেইলারের জন্য পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা না থাকায় যানবাহনগুলোকে প্রধান সড়ক ও আইসিডির সংরক্ষিত এলাকায় বাধ্য হয়ে অবস্থান করতে হয়। এতে সড়কে যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি আইসিডির স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে এ যানবাহনগুলোকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত মামলা ও জরিমানা করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ কমলাপুর আইসিডি কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ জানালেও বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেনি।

বন্দরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৪ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে করণীয়’ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সভার কার্যবিবরণীর ৬ নম্বর আলোচনার দফা (খ)-এ বলা হয়েছে, ‘কমলাপুর আইসিডির ট্রাক/লরিসমূহ মূল সড়ক থেকে সরাতে হবে। সেগুলো নিকটবর্তী সুবিধাজনক জায়গায় পার্ক করার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও ডিএমপির সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।’

এলাকাটি ঢাকার প্রধান যানজট স্পটগুলোর অন্যতম হওয়ায় এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে যানজটের মাত্রা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে খোদ বন্দর কর্তৃপক্ষও। তবে এ এলাকায় রেলের কোনো জমি না থাকায় এ বিষয়ে এখনই কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না রেলওয়ে ও বন্দর কর্তৃপক্ষ। এক্ষেত্রে টিটিপাড়া আন্ডারপাস ও কমলাপুর আইসিডির মধ্যবর্তী স্থানে রেলওয়ের দশমিক ৩৫ একর (৩৫ শতাংশ) পরিত্যক্ত জমি আইসিডির বিদ্যমান সীমানার সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে সীমিত পরিসরে পণ্যবাহী যান পার্কিংয়ের জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে চবক।

পরিমাণে কম হলেও বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান ট্রাক-ট্রেইলার মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে আপাতত এ জমি ব্যবহারের অনুমতি দিতে রেলওয়েকে অনুরোধ জানিয়েছে চবক। পাশাপাশি দ্রুত বিকল্প সমাধানে রেলওয়েকে অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

চবক জানিয়েছে, হারানো চার একরের বিপরীতে মাত্র ৩৫ শতাংশ পার্কিংয়ের জমি খুবই নগণ্য। আপাতত টিটিপাড়া-আইসিডির মধ্যবর্তী এলাকায় অস্থায়ী পার্কিং নির্ধারণের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলের খালি জমি নির্ধারণ করে আইসিডির জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা তৈরি করা দরকার। তা না হলে রাজধানীর যানজট ও সড়কে যানবাহন রাখার কারণে পরিবহন মালিকদের জরিমানা ও মামলা এড়ানো সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে পণ্য ও কনটেইনারবাহী যানবাহনের আইসিডিতে যাওয়ার অনাগ্রহ তৈরি, আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়াসহ দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চবক সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কমলাপুর আইসিডি বাংলাদেশ রেলওয়ের একটি অবকাঠামো। চবক একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে এ আইসিডি পরিচালনা করে। ফলে আইসিডিমুখী যানবাহন পার্কিং নির্ধারণের বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আইসিডির উদ্দেশে যাওয়া যানবাহনগুলো সড়কসহ যেখানে সেখানে অবস্থানের কারণে সৃষ্ট যানজট ও জটিলতার বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে রেলওয়েকে লিখিতভাবে জানিয়েছে।’ এসব যানবাহনের কারণে ঢাকার সড়কে সৃষ্ট যানজট ও সংকট নিরসনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তথ্যমতে, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডিতে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন শুরু হয়। ২০০০-০১ অর্থবছরে উভয় পথে (চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা কমলাপুর আইসিডি) কনটেইনার পরিবহন হয় ৫২ হাজার ৭৩৭টি। কয়েক বছরের মধ্যে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন বেড়ে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে উন্নীত হয় ৮১ হাজার ২৭০টিতে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কমলাপুর আইসিডিতে ৪০ হাজার ৪৮৭টি লোডেড কনটেইনার (আমদানীকৃত পণ্যবাহী কনটেইনার) পরিবহন হয়েছে। একই সময়ে কমলাপুর আইসিডি থেকে ১৮ হাজার ৭৬১টি লোডেড কনটেইনার ও ২৫ হাজার ৮৬০টি খালি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে পরিবহন করেছে রেলওয়ে। এসব কনটেইনার পরিবহন করে রেলওয়ে আয় করেছে ১৫২ কোটি ৬৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা।

জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম-ঢাকা) এবিএম কামরুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কমলাপুর আইসিডি রেলওয়ের হলেও এটি পরিচালনা করে চবক। সরকারের ঢাকাকেন্দ্রিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে রেলের অনেক ভূমি ব্যবহার হয়ে গেছে। তাছাড়া ব্যবসায়ী ও বন্দরের প্রয়োজনে আসা যানবাহনগুলোর পার্কিংসহ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি রেলওয়ের অধীন নয়। বন্দর চাইলে ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের পার্কিং ব্যবস্থাপনায় উদ্যোগ নিতে পারে। বন্দর আমাদের কাছে কিছু জমি চেয়েছে, মন্ত্রণালয় চাইলে রেলের এ জমি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নিতে পারে।’

রেলের তথ্যমতে, ১৯৮৭ সালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন আইসিডির গ্রাউন্ড ধারণক্ষমতা ছিল চার হাজার টিইইউএস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কনটেইনার ও ওয়াগনে পণ্য পরিবহন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজধানীর মধ্যে আইসিডির কারণে যানজট তীব্রতর হচ্ছে। এ কারণে গাজীপুরের ধীরাশ্রমে কমলাপুরেরটির তুলনায় বৃহৎ একটি আইসিডি নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একনেকে ৩ হাজার ৪০৩ কোটি টাকার প্রকল্পটি পাস হয়।

চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে কাজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ১৩ শতাংশের কিছু বেশি। প্রকল্পটির অধীনে বার্ষিক ৪ লাখ ৩২ হাজার টিইইউএস কনটেইনার অপারেশনের জন্য আইসিডি নির্মাণ ছাড়াও পূবাইল থেকে ধীরাশ্রম পর্যন্ত ৭ দশমিক ১৬ কিলোমিটার রেল লিংক (১০ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার ট্র্যাক) করা হবে। তবে দীর্ঘসূত্রতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরো কয়েক বছর সময়ক্ষেপণ হবে বলে আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়