শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০৮:৫৮ রাত
আপডেট : ০৩ জুলাই, ২০২২, ০৯:০৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

এবার উত্তরে কোরবানির ৮ হাট, দক্ষিণে ১০টি 

কুরবানির হাট

সুজিৎ নন্দী: ঈদুল আজহার আমেজ আসে কোরবানির পশুর হাট ঘিরে। পরিবারের সদস্যরা মিলে যাবে হাটে পশু কিনতে। ইতোমধ্যে প্রতিটি অস্থায়ী হাট সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। গত দুই বছর করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে হাটকেন্দ্রিক সকল ব্যবসা অনেকটা ভাটা পড়েছিল। 

রাজধানীর সব পশুর হাটে জনসমাগম ছিল নিয়ন্ত্রিত। ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে পশু ঢুকতে শুরু করেছে। এবার দক্ষিণাঞ্চলের পশু পদ্মা সেতু দিয়ে ঢুকতে পারবে। এতে পশু মালিকদের ভোগান্তি কম হবে।

এবারো নির্ধারিত হাটের সংখ্যাও কমিয়ে এনেছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও হাটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল হাটের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এবার উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বসানো হচ্ছে ৮টি অস্থায়ী পশুর হাট। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় বসতে যাচ্ছে ১০টি অস্থায়ী পশুর হাট।

এদিকে প্রতিটি হাট ইজারা নেবার পেছনে স্থানীয় কাউন্সিলররা রয়েছেন। ভাটারা (সাইদ নগর) অস্থায়ী পশুর হাট সুরুজ মিয়া ডাকলেও নেপথ্যে আছেন ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ঢালী পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। নজরুল ইসলাম ঢালী বলেন, আমি  আছি বলে হাটের কোন সমস্যা হবে না। এটা শুধু আমি না। প্রতিটি হাটেই স্থানীয় কাউন্সিলররা প্রধান ভ’মিকা পালন করেন। 

একাধিক ইজারাদার জানান, ইতোপূর্বে হাটের ইজারা নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকার্ন্ড ঘটতো। ক্ষেত্র বিশেষে হত্যাকান্ড ঘটতো। এখন সেটা নেই। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য অনলাইন থেকে কেনা পশু পছন্দ না হলে টাকা ফেরতের ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এছাড়া নগদ টাকার বদলে খামারিরা যাতে স্মার্ট পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন করতে পারেন সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, গত বছর অনলাইনে প্রচুর গবাদিপশু বিক্রি হয়েছিল। এবারও সে ব্যবস্থা চালু থাকছে। এছাড়া ঈদুল আজহা উদযাপন নিরাপদ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। 

দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় যে দুটি স্থায়ী হাট রয়েছে, সেগুলোতে বছর জুড়েই পশু কেনা-বেচা চলে। আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষ্যেও এই দুই হাটে কোরবানির পশু কেনা-বেচা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় স্থায়ী হাটটি হলো গাবতলী হাট আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় স্থায়ী হাট হলো সারুলিয়া স্থায়ী হাট। 

করোনার কারণে ২০২০ সালে প্রথম অনলাইন হাটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, তবে এর আগেও ব্যক্তি বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো অল্প সংখ্যক পশু অনলাইনে বিক্রির ট্রেন্ড চালু করেছিল। এরপর থেকে বিকাশ ঘটতে থাকে অললাইন হাটের। ২০২০ সালের মতো ২০২১ সালেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এবং ডিএনসিসির তত্ত্বাবধানে ই-ক্যাব ও বিডিএফ অনলাইন হাট পরিচালনা করেছে।

ডিজিটাল হাটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মাংস কাটা, গরু জবাই ও হোম ডেলিভারি সেবা। গত বছর ডিজিটাল হাট থেকে মোট পশু বিক্রি হয় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫শ ৭৯টি। এগুলোর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭ শত ১০টি। যার মোট মূল্য ২ হাজার ৭শ ৩৫ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৬শ ৭৮ টাকা।

উত্তর সিটির যে ৮ স্থানে বসবে অস্থায়ী হাট- কাওলা শিয়ালডাঙ্গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টর বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ এর খালি জায়গা, ভাটারা (সাইদ নগর), বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং, আফতাবনগর ব্লক ই থেকে এইচ পর্যন্ত এলাকা, মোহাম্মদপুর বছিলার ৪০ ফুট রাস্তা সংলগ্ন খালি জায়গা, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন ৬ এর খালি জায়গা এবং ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁচপুরা বেপারিপাড়ার রহমান নগর আবাসিক প্রকল্প এলাকায় অস্থায়ী এই ৮টি হাট বসবে।

দক্ষিণ সিটির যে ১০ স্থানে বসবে খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী ক্লাব সংঘ মাঠ, হাজারীবাগ ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজ মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসহ আশপাশের খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজার সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন খালি জায়গাসহ কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকা, যাত্রাবাড়ি দনিয়া কলেজ সংলগ্ন আশপাশের এলাকা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল সংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, লালবাগ রহমতগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ড সংলগ্ন খালি জায়গা এবং আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গায় এবার ডিএসসিসির নির্ধারিত অস্থায়ী হাটগুলো বসবে।

এই হাটগুলোর মধ্যে সবগুলোর ইজারা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। যারা  হাটগুলো ইজারা পেয়েছেন তারা হাটে বাঁশ, সামিয়ানা, হাসিল প্যান্ডেল, গরু রাখার স্থান নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন। বাকি কয়েকদিনের মধ্যেই হাটের সব ধরনের প্রস্তুতির কাজ তারা শেষ করে ফেলবেন বলে জানিয়েছেন।

এছাড়া মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মোড় খেলার মাঠ এবং তেজগাঁও পলিটেকনিক্যাল মাঠসহ আশপাশের খালি জায়গায় পৃথক দুটি হাট বসানোর জন্য আবেদন জানিয়েছেন কাউন্সিলররা। 

  • সর্বশেষ