শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৩:২৫ রাত
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর, ২০২১, ০৩:২৫ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মোহাম্মদ এ হালিম: গবেষণা শুরু করুন, সমাজকে সমৃদ্ধ করতে

মোহাম্মদ এ হালিম: বিজ্ঞান গবেষণার জন্য সবসময় লিখি, বিজ্ঞানের ছাত্রদের জন্য লিখি। অনেক সময় মানবিক ও সমাজবিজ্ঞানের ছাত্ররা জানতে চায় তাদের জন্য কোনো উদ্যোগ নিই না কেন?

প্রথমত: মানুষ ও সমাজ নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞান গবেষণার চেয়ে আমার কাছে জটিল মনে হয় এবং সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে আমার কোনো প্রশিক্ষণ নেই। প্রশিক্ষণ ছাড়া সমাজ বা অণু কোনো বিষয়েই গবেষণা করা সম্ভব নয়। আমরা মানুষের দেহে বিদ্যমান কোটি কোটি কোষের মাঝ থেকে লাখ লাখ অণুদের মধ্য থেকে ১০ ন্যানোমিটারে অল্পসংখ্যক অণু নিয়ে নাড়াচাড়া করি ও এক্সসাইটেট হয়ে উঠি যা অনেকাংশে এখনো বিস্ময়কর আমাদের কাছে। যারা মানুষের পুরো দেহ, মন ও তাদের সমাজ নিয়ে গবেষণা করেন তাদের গবেষণা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। ব্যক্তি, সমাজ, দেশ ও দেশগুচ্ছ নিয়ে গবেষণার বিষয় অনেক ব্যাপক। তবে মজার বিষয় হলো এ সমস্ত গবেষণা অনেক সহজেই শুরু করা যায়। এককভাবে বা গ্রুপে এ সমস্ত গবেষণার অনেক সম্ভাবনা থাকলেও আমাদের তরুণদের এ সমস্ত বিষয়ে আমরা আগ্রহী করে তুলতে পারিনি। অনেকদিন আগে জাপানের ঘঐক চ্যানেলে বাংলাদেশের ফার্মা ইন্ডাস্ট্রির উপর একটি প্রতিবেদন দেখছিলাম। সেই অনুষ্ঠানে তারা কয়েকজন জাপানিজ বিশেষজ্ঞকে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশ বিষয়ে তাদের জ্ঞানের গভীরতা দেখে ও শুনে আমি আশ্চর্য হলাম। আমাদের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে তাদের ধারণা অত্যন্ত ব্যাপক। আরও অবাক হলাম দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ে একজন জাপানি পিএইচডি ছাত্রের বক্তব্য শুনে। আমরা যে অন্য দেশগুলো সম্পর্কে জানি না, তা কিন্তু নয় তবে সেই জানাটি তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে জানা নয়, ভাসাভাসা জানা, বিসিএস পাসের জন্য জানা। ধরুন আফ্রিকা বা ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর বিষয়ে (তাদের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক) আমাদের ছাত্রদের মধ্যে কয়জন গবেষণা করেন? আমরা যদি তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে ওই দেশগুলোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, ও আঞ্চলিক সম্পর্কগুলো না জানি তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক করবো কীভাবে?

দেখুন আমাদের ছাত্রদের মধ্যে কতোজন আছেন যে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে অভিন্ন নদীগুলো সম্পর্কে সকল তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে গবেষণা করেন। সবগুলো চুক্তির ব্যাপারে আমাদের ছাত্ররা আপটুডেট কিনা? এক আইনুন নিশাত স্যারকে দিয়ে কতোদিন চলবে আমাদের? তথ্য-উপাত্ত ছাড়া এ যুগে আবেগ দিয়ে কোনো কিছু লাভ করা সম্ভব নয়। চীনের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অসংখ্য সম্পর্ক আমাদের। আমাদের ছাত্র ও শিক্ষকদের মধ্যে কতোজন চীন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আছেন? বার্মার সঙ্গে সমস্যা আমাদের। তাদের সক্ষমতা ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তির প্রতিটি বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন আমাদের কতোজন তরুণ? প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর Frence ২৪ টিভিতে নিয়মিত একজন পিএইচডি গবেষককে তারা নিয়ে আসতো। তার গবেষণার বিষয় ছিলো ইউরোপ ও আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলার প্রভাব ও প্রতিকারের উপর। সে পুরো দুনিয়ার হামলার খবর রাখতো ও তা পর্যালোচনা করতো। গাণিতিক মডেল দিয়ে সে তার মতামত পেশ করতো। দেশে আমরা নিয়মিতভাবে এ সমস্যাকে মোকাবেলা করছি। কিন্তু আমাদের সমাজবিজ্ঞানী ছাত্ররা এসব বিষয়ে কতোটুকু গবেষণা করছে? তরুণ ম্যাখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ঋৎবহপব ২৪ টিভিতে একজন পিএইচডি ছাত্রের তথ্যসমৃদ্ধ আলোচনা: নেপোলিয়ান থেকে ম্যাখন, আমি অবাক হয়ে শুনলাম। ১৯৪৭ থেকে আমাদের প্রতিটি নির্বাচনের প্রভাব নিয়ে আমরা গবেষণা করি কি? সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের সমস্যা অনেকদিনের। অসংখ্য নিরীহ জীবন আমরা হারিয়েছি। কিন্তু ১৯৭১ সাল থেকে এ পর্যন্ত কতোটি প্রাণ নিঃশেষ হয়েছে, কোথায় ও কি কারণে, কীভাবে সমস্যার সমাধান হয়েছে? আমাদের ছাত্রদের কাছে সেই তথ্য ও উপাত্ত আছে কি?

এগুলো না হয় সাম্প্রতিক বিষয়, ইতিহাসের বিষয় তো আরও মজার। ফরাসি বিপ্লবের পরে ফ্রান্সে পুরোপরি গণতন্ত্র আসতে কতো বছর লেগেছিলো, এই বিষয় আমাদের রাজনৈতিক অবস্থা বুঝতে সাহায্য করতে পারে কি? প্রথম রিপাবলিক থেকে পঞ্চম রিপাবলিকে রূপান্তরের প্রতিটি পর্যায় সম্পর্কে আমাদের ছাত্ররা গবেষণা করেন কি? গ্রিক মারাকন্দ থেকে সমরকন্দ কীভাবে তৈরি হয়েছিলো? তৈমুর লং-এর সঙ্গে ইবনে খালদুনের সম্পর্ক কেমন ছিলো? এরকম হাজারো বিষয় রয়েছে দেশ ও বিদেশের ইতিহাস, সাহিত্য, বাণিজ্য ও সমাজ পাঠের। আমি স্বপ্ন দেখি আমাদের প্রতিটি ছাত্র একেকটি বিষয়ে একজন পরিপূর্ণ গবেষক হয়ে উঠবে। আর আমরা তাদের বুদ্ধিদীপ্ত কথা ও পর্যালোচনা দেখে মুগ্ধ হবো। দেরি না করে দ্রত শুরু করুন। গবেষণা শুরু করুন নিজেকে ও আমাদের সমাজকে সমৃদ্ধ করতে। ফেসবুক থেকে

 

  • সর্বশেষ