প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সরকারকে একটি ধাক্কা দিতে পারলেই তার অস্তিত্ব টিকবেনা: বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে ড. খন্দকার মোশারফ

রিয়াজুর রহমান রিয়াজ: [২] বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন- আজ আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা বলেন- বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যান, এটা নাকি আইনে নাই। প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করেন। প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদনের জন্য আওয়ামী লীগের কোনো মন্ত্রীর আমাদের সবক দিতে হবে না। আবেদন করব কি করব না- সেটা বিএনপির একজন সাধারণ কর্মীও জানে। যদি কোনো ব্যক্তি সত্যিকারের দোষ করে সাজা পান, তাহলে তিনি দোষ স্বীকার করে প্রেসিডেন্টের কাছে আবেদন করে ক্ষমা চাইতে পারেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কোনো দোষ করেনি। তিনি দোষী নন। তাকে গায়ের জোরে সরকারের নির্দেশে একটি ভূয়া মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। তিনি নাকি এতিমের কোটি কোটি টাকা মেরে খেয়েছেন, অথচ ওই দুই কোটি টাকা এখনও ব্যাংকে। সেই টাকা এখন বেড়ে আট কোটি টাকার বেশি হয়েছে। যদি ব্যাংক থেকে একটি টাকাও উত্তোলন না হয়ে থাকে, তাহলে বেগম জিয়া কিভাবে এতিমের টাকা মেরে খেলেন ? অর্থাৎ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি দোষী না হয়েও দোষ স্বীকার করে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন, সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নন। বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী। এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তিনি সেটা প্রমাণ করেছেন। সেদিন আওয়ামী লীগ এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে গিয়েছিল, বেগম জিয়া আপসহীন ছিলেন। অথচ আজ তিনি আপস করবেন, কত বড় দুঃসাহস ! যারা আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী-এমপিরা এসব কথা বলেন, তাদের বলছি- বেগম খালেদা জিয়া কোনো দোষ করেননি, প্রেসিডেন্টের কাছে দোষ স্বীকার করে আবেদন করার প্রশ্নই আসে না।

[৩] তিনি মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া কালামিয়া বাজারের কে বি কনভেনশন হল সংলগ্ন মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবীতে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

[৪] তিনি বলেন, সরকার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আইনে বিনা শর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো সম্ভব। দেশের মানুষের দাবি বেগম জিয়াকে বিদেশে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

[৫] ড. মোশারফ বলেন, আজকের স্বতঃস্ফূর্ত এই সমাবেশ প্রমাণ করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। এই সমাবেশ প্রমাণ করে দেশের ১৮ কোটি মানুষ চায় বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে দিয়ে উনাকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হোক। সেই দাবিতেই আমরা চট্টগ্রামে এসেছি। আজ বাংলাদেশের ৫০ বছর হয়েছে, আমরা স্বাধীন হয়েছি। আমরা সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছি। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই ৫০ বছর পরে এই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী আজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তাকে বিদেশে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সারা বাংলাদেশে আজ সমাবেশ করে আমাদের দাবি জানাতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। যে কোনো মানুষের বাংলাদেশে মৌলিক, মানবিক অধিকার আছে, যে কোনো ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য যে কোনো দেশে যেতে পারেন। আর আজকের সরকার প্রধান এই দেশনেত্রীর প্রতি প্রতিহিংসার কারণে একটি বানোয়াট মামলায় কারাগারে বন্দি করে রেখেছে।

[৬] সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মো. নাছির উদ্দীন বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার ঘোষকের দল। বেগম খালেদা জিয়া তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। আজকে তাকে ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে বন্দি করে রেখেছে সরকার। শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে নিজের মামলাগুলো তুলে নিয়ে বিএনপি’র নেতাকর্মীদেরকে জেলে নিয়ে যাচ্ছে। তারা জনগণের সরকার না, তারা বাহিনীর সরকার। ওবাইদুল কাদের এখন সুন্দর সুন্দর কথা বলছেন। তিনি কথা শিল্পী হিসেবে ভাল পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে উদ্যেশ্য করে বলেন, অবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেন। না দিলে জনগন আপনাদেরকে থুথু দিবে।

[৭] সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজকের এই সমাবেশ ১০ বছর আগের পলোগ্রাউন্ডের জনসভার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। চট্টগ্রামের মানুষ প্রমাণ করেছে, বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে না পাঠালে শেখ হাসিনার পতন ঘন্টা বাজানের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিন, না হয় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করুন। অতো দানাই পানাই করবেন না, চট্টগ্রামবাসী শেখ হাসিনাকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেবে। বেগম খালেদা জিয়া কারো করুণার পাত্র নয়। ওয়ান ইলেভেনের সময় শেখ হাসিনা কানের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় চলে গিয়েছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যাননি, তিনি দেশেই চিকিৎসার পক্ষে ছিলেন। তিনি নেতাকর্মীদেরকে কাফনের কাপড় পরে প্রয়োজনে রক্ত দিতে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

[৮] বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম বলেন, আজকের এই বিভাগীয় সমাবেশ প্রমাণ করেছে, যদি বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে চট্টগ্রামকে অচল করে দেওয়া হবে। আমরা ঘরে বসে থাকবো না। বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

[৯] চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় বিএনপির মৎস্য বিষয়ক সম্পদক লুৎফুর রহমান কাজল, উপজাতি সম্পাদক মিসেস ম্যা মা চিং, সাবেক মন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মজুমদার, হারুন অর রশিদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা সম্পাদক নুরী আরা সাফা, সাবেক এমপি শাহাজাহান চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, কেন্দ্রীয় যুবদলের মোরতাজুল করিম বাদরু, ফেনি জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, কেন্দ্রীয় সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়া, মামুনুর রশীদ মামুন, মশিয়ুর রহমান বিপ্লব, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিন, এরশাদ উল্লাহ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোসতাক আহমদ খান, লক্ষীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাবুদ্দীন সাবু, বান্দরবন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রেজা, বিএনপি নেতা নুরুল আমিন চেয়ারম্যান, ইন্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল, এনামুল হক এনাম, এডভোকেট এনামুল হক, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশারফ হোসেন দিপ্তি, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহেদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকএম এন আবছার, ফেনি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল, রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিপেন তালুকদার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক ইউনুছ চৌধুরী, নুরুল আমিন, নুর মোহাম্মদ, হাছান জসিম, ফাতেমা বাদশা, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক সাইফুল আলম, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শহিদুল আলম শহীদ, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত