শিরোনাম
◈ রিয়াদে ফ্লাইট বন্ধ, বিকল্প হিসেবে দাম্মাম ও মদিনায় পাঠানো হবে যাত্রীদের: বিমানমন্ত্রী ◈ বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: ভারতের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর চেয়েও বেশি আয় যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্রদের ◈ যে কারণে সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের দোকান বন্ধ ঘোষণা ◈ অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে খুন করে ৯৯৯–এ কল, ঘটনাস্থলে পুলিশ দেখল লাশের পাশে ধূমপান করছেন স্বামী ◈ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের কয়লা উত্তোলনে জোর, অগ্রাধিকার পাচ্ছে ফুলবাড়ী খনি ◈ চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে ভবনের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা ◈ প্রথম ভোট শুরু ২১ জানুয়ারি, পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন: ইসি ◈ ‘নাশতা করার সময় চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়’, উত্তরায় জি এম কাদেরের বাসায় হামলা-ভাঙচুর ◈ অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার নিয়ে যা জানালেন ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার ◈ জ্বালানি খাতের বাড়তি ব্যয় সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:৩৯ রাত
আপডেট : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:৩৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খান আসাদ: কৃষির সঙ্গে জড়িত প্রশ্ন কেবল কৃষকের ‘স্বার্থ’

খান আসাদ
এক বছরের কৃষক আন্দোলন। ৭০০ মানুষের আত্মদান। অবশেষে মোদি বা ভারতীয় কর্পোরেট পুঁজির পিছু হটা। কিন্তু এটা কি বিজয়? সমস্যা কি কৃষি নীতি বা শুধুই আইনের? নাকি গোটা পুঁজিবাদী ‘প্রতিযোগিতার’ অর্থনীতি ব্যবস্থার? ভারতের মতো জার্মানিতেও একটি নতুন ধরনের কৃষক আন্দোলন সূচিত হয়েছে, যা ফেসবুক দিয়ে শুরু। খধহফ ংপযধভভঃ ঠবৎনরহফঁহম (খংঠ) বা ঈড়ঁহঃৎু ঈৎবধঃবং ঈড়হহবপঃরড়হ, তৃণমূলের কৃষক আন্দোলন, যা জার্মানির প্রথাগত পুঁজিবাদী কৃষক আন্দোলন নয়। জার্মানির কৃষকের সমস্যা কী? অসম ‘প্রতিযোগিতা’, এককথায়। কৃষকরা সুপার মার্কেট ও ফুড ইন্ডাস্ট্রির বড় পুঁজি ও সিন্ডিকেটের দয়ার ওপর টিকে থাকে। মানে কৃষিতে খরচ ও পণ্যের দামের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই।

বড় পুঁজির সঙ্গে তথাকথিত ‘প্রতিযোগিতার’ কোনো বাস্তব ভিত্তি বা সুযোগ নেই। ফলে কৃষকদের আয় কমে গেছে এবং এই নতুন কৃষক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় অর্ধেকের বেশি জার্মান কৃষকের ব্যবসা শেষ, গত কয়েক বছরে। গত বছরে সার, কীটনাশক ও পরিবেশ রক্ষার নতুন আইন নিয়ে এই কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেছে। নতুন আইন মেনে নিলে, উৎপাদন খরচ বাড়বে। তাহলে কী হবে? কী আবার হবে? সুপার মার্কেট ও ফুড ইন্ডাস্ট্রি অন্য দেশ থেকে কৃষিপণ্য সস্তায় আমদানি করবে। ফলে একদিকে পরিবহনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হবে, অন্যদিকে যে দেশ থেকে আমদানি করা হবে সেখানের পরিবেশও বেশি দূষিত হবে। এই কৃষক আন্দোলনের নেতাদের যুক্তি, পরিবেশের নামে আসলে নতুন নীতি আরও পরিবেশ ধ্বংস করবে, হয়তো জার্মানির বাইরে, যেমন ভারতে, কিন্তু তার প্রভাব বৈশি^ক। অন্যদিকে আমদানির ফলে স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব হারাতে হবে।

বড় পুঁজি ছোট পুঁজি খেয়ে ফেলে, মানে মনোপলির সমস্যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। অসম ‘প্রতিযোগিতা’ পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। পুঁজিবাদ এই সমস্যার সমাধান ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে, কিন্তু বিকশিত বা কেন্দ্রের পুঁজিবাদেও তা মীমাংসা হয় না। জার্মানির সাম্প্রতিক কৃষির বা কৃষক আন্দোলনের ঘটনা আমাদের এই বাস্তবতাই দেখিয়ে দেয়। কৃষির সঙ্গে জড়িত প্রশ্ন শুধু কৃষকের ‘স্বার্থ’ বা কৃষকের ‘প্রতিযোগিতার’ ক্ষমতা নয়। কৃষির সঙ্গে জড়িত খাদ্যনিরাপত্তা, খাদ্য সার্বভৌমত্ব, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সর্বোপরি জাতীয় সংস্কৃতি (আমি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী নই, কিন্তু বাংলার বাঙালি ও আদিবাসী কৃষিসংস্কৃতির ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী)। ফলে কৃষি সমস্যাক পুঁজিবাদী লেন্স দিয়ে দেখে ‘প্রতিযোগিতার’ সমস্যা বিবেচনা কিংবা ‘মুক্তবাজার’ সমাধান দিয়ে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হবে না। আগামীর সংহতি অর্থনীতি নিয়ে ভাবুন, যা পুঁজিবাদ উত্তর কোনো সমাজেই সম্ভব। ভারতের সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলনের সাফল্যের জন্য তাঁদের অভিনন্দন এবং যারা জীবন দিয়ে এই আপাত সাফল্য অর্জন করেছেন তাঁদের ত্যাগের ও আত্মদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ