শিরোনাম
◈ বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চট্টগ্রাম-রানং শিপিং রুট চালু করতে আগ্রহী থাইল্যান্ড ◈ ‘ফার্স্ট বাংলাদেশ’ নীতিতে ৬ মাস : কূটনীতিতে কতটা এগোল বিএনপি সরকার? ◈ শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকেই সমাধান সম্ভব, তারেক রহমানের দ্রুত ভারত সফর চান দীনেশ ত্রিবেদী ◈ উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানের উইন্ডস্ক্রিনে ফাটল, নেপালে আটকা ১২৭ যাত্রী ◈ বড় ভূমিকম্পের আগেই মহাপরিকল্পনা সরকারের, ঢাকায় চিহ্নিত ৪৪৫ নিরাপদ আশ্রয়স্থল ◈ রাজধানীতে চালু হচ্ছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস: নিরাপদ গণপরিবহনে নতুন দিগন্ত ◈ আরেকটি বড় জয় বাংলাদেশের, মাল‌য়ে‌শিয়া‌কে হোয়াইটওয়াশ কর‌লো জু‌নিয়র টাইগাররা ◈ বাংলাদেশকে অন্য দেশের মতো নয়, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই: তারেক রহমান ◈ রাজধানী থেকে দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার ◈ বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:৩৯ রাত
আপডেট : ২৫ নভেম্বর, ২০২১, ০৩:৩৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খান আসাদ: কৃষির সঙ্গে জড়িত প্রশ্ন কেবল কৃষকের ‘স্বার্থ’

খান আসাদ
এক বছরের কৃষক আন্দোলন। ৭০০ মানুষের আত্মদান। অবশেষে মোদি বা ভারতীয় কর্পোরেট পুঁজির পিছু হটা। কিন্তু এটা কি বিজয়? সমস্যা কি কৃষি নীতি বা শুধুই আইনের? নাকি গোটা পুঁজিবাদী ‘প্রতিযোগিতার’ অর্থনীতি ব্যবস্থার? ভারতের মতো জার্মানিতেও একটি নতুন ধরনের কৃষক আন্দোলন সূচিত হয়েছে, যা ফেসবুক দিয়ে শুরু। খধহফ ংপযধভভঃ ঠবৎনরহফঁহম (খংঠ) বা ঈড়ঁহঃৎু ঈৎবধঃবং ঈড়হহবপঃরড়হ, তৃণমূলের কৃষক আন্দোলন, যা জার্মানির প্রথাগত পুঁজিবাদী কৃষক আন্দোলন নয়। জার্মানির কৃষকের সমস্যা কী? অসম ‘প্রতিযোগিতা’, এককথায়। কৃষকরা সুপার মার্কেট ও ফুড ইন্ডাস্ট্রির বড় পুঁজি ও সিন্ডিকেটের দয়ার ওপর টিকে থাকে। মানে কৃষিতে খরচ ও পণ্যের দামের ওপর পুরো নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেই।

বড় পুঁজির সঙ্গে তথাকথিত ‘প্রতিযোগিতার’ কোনো বাস্তব ভিত্তি বা সুযোগ নেই। ফলে কৃষকদের আয় কমে গেছে এবং এই নতুন কৃষক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী প্রায় অর্ধেকের বেশি জার্মান কৃষকের ব্যবসা শেষ, গত কয়েক বছরে। গত বছরে সার, কীটনাশক ও পরিবেশ রক্ষার নতুন আইন নিয়ে এই কৃষকরা আন্দোলন শুরু করেছে। নতুন আইন মেনে নিলে, উৎপাদন খরচ বাড়বে। তাহলে কী হবে? কী আবার হবে? সুপার মার্কেট ও ফুড ইন্ডাস্ট্রি অন্য দেশ থেকে কৃষিপণ্য সস্তায় আমদানি করবে। ফলে একদিকে পরিবহনের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হবে, অন্যদিকে যে দেশ থেকে আমদানি করা হবে সেখানের পরিবেশও বেশি দূষিত হবে। এই কৃষক আন্দোলনের নেতাদের যুক্তি, পরিবেশের নামে আসলে নতুন নীতি আরও পরিবেশ ধ্বংস করবে, হয়তো জার্মানির বাইরে, যেমন ভারতে, কিন্তু তার প্রভাব বৈশি^ক। অন্যদিকে আমদানির ফলে স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও খাদ্য সার্বভৌমত্ব হারাতে হবে।

বড় পুঁজি ছোট পুঁজি খেয়ে ফেলে, মানে মনোপলির সমস্যা পুঁজিবাদী ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। অসম ‘প্রতিযোগিতা’ পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য উপাদান। পুঁজিবাদ এই সমস্যার সমাধান ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করে, কিন্তু বিকশিত বা কেন্দ্রের পুঁজিবাদেও তা মীমাংসা হয় না। জার্মানির সাম্প্রতিক কৃষির বা কৃষক আন্দোলনের ঘটনা আমাদের এই বাস্তবতাই দেখিয়ে দেয়। কৃষির সঙ্গে জড়িত প্রশ্ন শুধু কৃষকের ‘স্বার্থ’ বা কৃষকের ‘প্রতিযোগিতার’ ক্ষমতা নয়। কৃষির সঙ্গে জড়িত খাদ্যনিরাপত্তা, খাদ্য সার্বভৌমত্ব, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং সর্বোপরি জাতীয় সংস্কৃতি (আমি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদী নই, কিন্তু বাংলার বাঙালি ও আদিবাসী কৃষিসংস্কৃতির ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী)। ফলে কৃষি সমস্যাক পুঁজিবাদী লেন্স দিয়ে দেখে ‘প্রতিযোগিতার’ সমস্যা বিবেচনা কিংবা ‘মুক্তবাজার’ সমাধান দিয়ে কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ রক্ষা হবে না। আগামীর সংহতি অর্থনীতি নিয়ে ভাবুন, যা পুঁজিবাদ উত্তর কোনো সমাজেই সম্ভব। ভারতের সাম্প্রতিক কৃষক আন্দোলনের সাফল্যের জন্য তাঁদের অভিনন্দন এবং যারা জীবন দিয়ে এই আপাত সাফল্য অর্জন করেছেন তাঁদের ত্যাগের ও আত্মদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়