প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: দরদী শেখ রাসেল, মানবিক রাসেল

অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন: ১৯৮৫ সালে সাংবাদিক ও লেখক এন্থনি মাসকারেনহাস কর্নেল রশিদকে প্রশ্ন করেছিলেন, একজন এগারো বছরের শিশুকেও কি আপনাদের হত্যা করা প্রয়োজন ছিলো? কর্নেল রশিদ বললেন, ‘হ্যাঁ। কারণ আমরা শেখ মুজিবকে স্ববংশে নির্মূল করতে চেয়েছিলাম’। খুনিরা কী পরিমাণ নৃশংস যে খুনের একদশক পরও এমন উচ্চারণ করতে পারেন কর্নেল রশিদ। বঙ্গবন্ধুর সব সন্তানের নাম মুসলমান বা বাঙালি। কিন্তু একমাত্র কনিষ্ঠ সন্তানের নাম ছিলো ইংরেজি। অর্থাৎ নামটি ছিলো বার্ট্র্রান্ড রাসেলের অনুকরণে। কারণ বঙ্গবন্ধু পরিণত বয়সে বার্ট্রান্ড রাসেলের ভক্ত হয়েছিলেন। কারণ বার্ট্রান্ড রাসেল বিশ^ শান্তির নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন তখন। বার্ট্রান্ড রাসেলের এতো ভক্ত ছিলেন বঙ্গবন্ধু যে বার্ট্রান্ড নিজে পড়তেন এবং বাংলা অনুবাদ করে স্ত্রীকেও শোনাতেন। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলেই বার্ট্রান্ড রাসেল পাঠ করতেন। ফলে এমন দম্পতির সন্তানের নাম রাসেল হবে এটাই স্বাভাবিক।

রাসেল ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্বমূলক গুণাবলীর প্রমাণ রেখেছিলো। যেমন সে টুঙ্গিপাড়া গেলে আশপাশের ছেলেমেয়েদের যোগাড় করে সবাইকে সৈনিকের মতো দাঁড় করিয়ে দিয়ে প্যারেড করাতো! পরে খাবার দেওয়া হতো তাদের। বলেছিলো, বড় হয়ে সে আর্মি অফিসার হবে। কিন্তু জানা ছিলো না এই আর্মির হাতেই তার প্রাণসংহার হবে।

রাসেলকে যখন হত্যা করা হয় তখন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরী স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সে। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিলো। ল্যাবরেটরী স্কুল থেকে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেওয়ার একটা পরিকল্পনাও ছিলো, তাতে ৬ জন ছাত্রকে নির্বাচন করা হয়েছিলো। এর মধ্যে শেখ রাসেলও ছিলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে আর সেই অভিবাদন জানানো হয়নি রাসেলের। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫Ñনিজেও পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে গিয়েছিলো। তবে শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আরেক বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠতে পারতো। তার প্রমাণ আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কারণ দু’জনেরই ধমনীতে প্রবাহিত বঙ্গবন্ধুর রক্ত।
শেখ রাসেল স্কুলে খুব একটা যেতে চাইতো না বলে বাড়িতে একজন গৃহশিক্ষক রাখা হয়েছিলো একজন নারী তার নাম গীতালি চক্রবর্তী । বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করেন। সেই গৃহশিক্ষকের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠেছিলো।

শেখ হাসিনা একটা বইয়ে উল্লেখ করেছেন, তাদের ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরের বাড়িতে টমি নামে একটা কুকুর ছিলো। কুকুরটিকে সবাই ভালোবাসতো। রাসেলও কুকুরটিকে ভালোবাসতো। রাসেল কুকুরের সঙ্গে খাবার ভাগ করে খেতো। একদিন কুকুরটি রাসেলের সামনে ঘেউ ঘেউ করে ওঠেছিলো। তখন সে সবার কাছে গিয়ে অভিযোগ করলো, টমি তাকে বকা দিয়েছে! এতোটুকু আত্মিক সম্পর্ক কুকুরটির সঙ্গে রাসেলের ছিলো।

শেখ রাসেল জেলখানায় বঙ্গবন্ধুকে দেখতে যেতো। গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে বলতো, ‘আমাদের বালি চলো, বালি চলো’। বাড়ি বলতে পারতো না, ‘বালি’ বলতো। বঙ্গমাতা বলে দিয়েছিলেন, এটা তোমার বাবার বাড়ি, আমাদের বাড়ি বত্রিশ নম্বরে। রাসেল ঝুঝেছিলো। অবসরে সবসময় ‘আব্বা, আব্বা’ করতো। বঙ্গমাতা বলে দিয়েছিলেন, ‘আমাকেই তুমি আব্বা বলো’! শেখ রাসেল মাকেই মাঝেমধ্যে আব্বা বলতো!

আমাদের স্মরণ করা উচিত বঙ্গমাতা তিন বছর বয়সে বিয়ের পর শাশুড়ির কাছে চলে এসেছিলেন। তিনিও শাশুড়ি আব্বা বলতেন! বেশ চমকপ্রদ কিছু ঘটনা আছে শেখ রাসেলকে নিয়ে। আমাদের কষ্ট একটি শিশুকেও বুলেটবিদ্ধ করা হয়েছিলো সেদিন রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য। তবে খুনিরা আঁস্তাকুড়ে আর্বজনা, ১৫ আগস্টের শহীদেররা আমাদের স্মৃতিতে সম্জ্জ্বুল।
পরিচিতি : ইতিহাসবিদ।

সর্বাধিক পঠিত